স্পোর্টস ডেস্ক

২৪ জুন, ২০২৬ ১০:২৫

পানামার বিদায়, টিকে থাকল ক্রোয়েশিয়া

বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখার মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রত্যাশার চেয়েও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে পানামার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত আন্তে বুদিমিরের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়েছে ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা।

এই জয়ের ফলে ‘গ্রুপ এল’ থেকে শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকল ক্রোয়াটরা, আর টানা দুই ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হলো পানামার।

এই ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচটি ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচের জন্য ছিল ভীষণ স্পেশাল। দেশের ইতিহাসে চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে আজ নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অভিষেক হওয়া এই ব্যালন ডি'অর জয়ী তারকাকে ৮১ মিনিটে যখন তুলে নেওয়া হয়, তখন গ্যালারিজুড়ে করতালির ঝড় ওঠে। ম্যাচ শেষে সতীর্থরা তাঁকে একটি বিশেষ জার্সিও উপহার দেয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে ক্রোয়াট রক্ষণকে চাপে রাখে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে আসা পানামা। প্রথমার্ধের ২২তম মিনিটে মুরিলোর একটি শট সহজেই বল গ্লাভসে নেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। এর ঠিক এক মিনিট পরেই ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায় পানামা। মুরিলোর নিখুঁত ক্রস থেকে হোসে লুইস রদ্রিগেজের দুর্দান্ত এক হেড অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন লিভাকোভিচ, যার পর বলটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা পায় ক্রোয়েশিয়া।

প্রথমার্ধের এই গোলশূন্য অবস্থার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুটি পরিবর্তন এনে চাল চালেন ক্রোয়াট কোচ জলাতকো দালিচ।

কোচের সেই কৌশলগত চাল সফল হয় ম্যাচের ৫৪ মিনিটে। বিরতির ঠিক নয় মিনিট পর বায়ার্ন মিউনিখ ডিফেন্ডার যোসিপ স্তানিশিচের নিখুঁত ক্রস থেকে ব্যাক পোস্টে থাকা বদলি স্ট্রাইকার আন্তে বুদিমির চমৎকার টাইমিংয়ে বুক দিয়ে বল জালে ঠেলে ক্রোয়েশিয়াকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন।

পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে পানামা। ৬৮ মিনিটে মার্টিনেজের আক্রমণ রুখে দেওয়ার পর ৮০ মিনিটে কর্নার থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন হার্ভি, কিন্তু তাঁর শট জালের বাইরের পাশে আঘাত করলে গোলবঞ্চিত হয় পানামা।

অন্যদিকে মারিও পাসালিচ ক্রোয়েশিয়ার ব্যবধান বাড়ানোর একটি সুযোগ পেলেও পানামার গোলরক্ষক মস্কেরা তা দারুণভাবে সেভ করেন।

পরিসংখ্যানে পানামা ৮টি শট নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার (৬টি শট) চেয়ে আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় এগিয়ে ছিল ক্রোয়াটরাই। এই জয়ের পর দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ক্রোয়েশিয়া, যেখানে শীর্ষে থাকা ইংল্যান্ড ও ঘানার চেয়ে তারা মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে।

আগামী শনিবার ঘানার বিপক্ষে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে মাঠে নামবে ক্রোয়েশিয়া, যেখানে জয় পেলেই নিশ্চিত হবে তাদের শেষ ষোলোর টিকিট।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত