Advertise

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ এপ্রিল, ২০২০ ১৩:১৬

মুক্ত হলো করোনার উৎপত্তিস্থল উহান

প্রায় ১০ সপ্তাহ পর নভেল করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহরের লকডাউন পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরই মধ্যে লাখ লাখ মানুষ উহান শহর ছেড়ে তাদের নিজ এলাকায় বা শহরের বাইরের কর্মস্থলে ফিরতে— বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়েছেন। এসব মানুষ লকডাউনের কারণে এতদিন আটকা পড়েছিলেন শহরটিতে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় এ শহরটিতেই। গত ২৩ জানুয়ারি এ ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর পুরোপুরি লকডাউন করে দেয় চীন সরকার। এর প্রায় ১০ সপ্তাহ পর এই প্রথম বুধবার থেকে চীনের এ শহরটির নাগরিকরা মুক্তভাবে চলাফেরা করতে শুরু করেছেন।

উহানের ১ কোটি ১০ লাখ নাগরিক লকডাউনের এ সময়টিতে একেবারে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। সব ধরণের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করায় বাকি পৃথিবী থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা। তবে মার্চের মাঝামাঝি থেকে শহরটিতে সংক্রমণের সংখ্যা অনেকটাই কমে আসে।

২৪ মার্চ এক সপ্তাহ ধরে উহানে নতুন কোন আক্রান্তের ঘটনা না ঘটায় শর্তসাপেক্ষে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে শহর কর্তৃপক্ষ। এর ১১ দিন পর এবার লকডাউন পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো।

তবে শহরটি ছাড়তে এখনও কিউআর কোড প্রদর্শন করতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে হুবেই প্রদেশের স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে একটি কিউআর কোড দেওয়া হয়েছে নাগরিকদের। ওই কোডটি স্ক্যান করে ভ্রমণকারীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন টহলরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা।

এছাড়া উহান থেকে সরাসরি যারা রাজধানী বেইজিংয়ে যাচ্ছেন— তাদেরকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার আরেক ঘোষণায় চীন জানায়— নভেল করোনাভাইরসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

উল্লেখ্য, চীনের উহান শহর থেকে উদ্ভূত করোনাভাইরাসে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চীনে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৭৪০ জন। তবে উৎপত্তিস্থলে কঠোর লকডাউন পালন করলেও দেশের বাইরে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে পারেনি চীন। বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ লাখেরও বেশি মানুষ। এ ভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগে ভুগে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮১ হাজারেরও বেশি। বিশ্বজুড়ে এসব সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত