নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ মে, ২০২৬ ২১:১৬

চামড়া শিল্পকে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের রপ্তানিখাতে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য: খন্দকার মুক্তাদির

বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চামড়া শিল্পের বিদ্যমান সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে একে আগামী দিনে একটি মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।

এবার চামড়া পাচারের তেমন সুযোগ নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে সংগঠিতভাবে চামড়া পাচারের সুযোগ খুবই সীমিত। তবে চামড়া খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। এই সমস্যা দূর করা গেলে শিল্পটি আরও বড় পরিসরে বিকশিত হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেটেন চামড়া ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এমনটি বলেন।

বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে আগামী দিনে বহুমাত্রিক সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে পরিণত করতে নানা উদ্যোগের কথাও এসময় তুলে ধরেন বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার বা সিইটিপির কার্যকারিতা ও সক্ষমতা নিয়ে একটি ইতালীয় প্রতিষ্ঠান গবেষণা করছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, সিইটিপির পরিকল্পিত পরিশোধন সক্ষমতা প্রতিদিন ২৫ হাজার ঘনমিটার হলেও বর্তমানে তা ১৪ থেকে ১৭ হাজার ঘনমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই সক্ষমতাকে পূর্ণমাত্রায় উন্নীত করার পাশাপাশি ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের সময় যেসব ট্যানারি সঠিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি, সেগুলোর মধ্যে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনে নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদেরও চামড়া খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।

চামড়া সংগ্রহ নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, চামড়া শিল্পের জন্য স্বতন্ত্র বোর্ড গঠন কোনো বিষয় না।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তিনি দেশজুড়ে কোরবানির পশুর চামড়া যথাযথভাবে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণের আহ্বান জানান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে একসঙ্গে সাভারের বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না এবং সংরক্ষিত চামড়া সারা বছর ধীরে ধীরে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।

চামড়ার দাম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি নির্দেশনামূলক মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে চামড়ার প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে পশুর শরীর থেকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে চামড়া ছাড়ানো হয়েছে এবং কত দ্রুত ও সঠিকভাবে তা লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে তার ওপর।

এরআগে চামড়া ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময়কালে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, কোরবানি আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয়। তাই কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণেও সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশের ট্যানারি ও কারখানাগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী স্বল্প সময়ে সব চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব নয়। ফলে চামড়া নষ্ট হওয়া ঠেকাতে যথাযথ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ব্যবহার উপযোগী চামড়ার ন্যায্য মূল্য ব্যবসায়ীরা পাবেন বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী। অতীতে চামড়া খাতে যে সংকট ও অনিয়ম দেখা গেছে, তার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও জানান তিনি।

চামড়া থেকে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়ে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় এই সম্পদ রক্ষায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা করবে সিটি করপোরেশন।

সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানান, চামড়া ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যাতে উপযুক্ত মূল্য পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ প্রয়োজনে সিটি করপোরেশন নিজেও চামড়া ক্রয় করবে।

এদিকে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এবার কওমি মাদ্রাসাগুলোও চামড়া সংগ্রহে অংশ নেবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সংগৃহীত চামড়া যাতে অবিক্রীত না থাকে এবং নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।

চামড়া যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এবারের চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয় সভায়।

মতবিনিময়কালে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ চামড়া ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত