COVID-19
CORONAVIRUS
OUTBREAK

Bangladesh

Worldwide

88

Confirmed Cases

09

Deaths

33

Recovered

1,265,976

Cases

69,042

Deaths

260,967

Recovered

Source : IEDCR

Source : worldometers.info

সিলেটটুডে ডেস্ক

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০৩:০২

করোনা ভাইরাস বিষয়ে যা জানা প্রয়োজন

ছবি: এপি

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে চীনসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে যে রোগ ছড়িয়ে পড়েছে তাতে এ পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সংক্রমিত হয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ।

ভাইরাসটি কোনো একটি প্রাণি থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করেছে এবং একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াতে ছড়াতে আবার নিজের জিনগত গঠনে সবসময় পরিবর্তন আনছে, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয়ে থাকে মিউটেশন। খবর: বিবিসি’র।

এই ভাইরাস অল্পদিনের মধ্যেই আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু এ ভাইরাসটির প্রকৃতি এবং কিভাবেই তা রোধ করা যেতে পারে সে বিষয়ে এখনও বিশদভাবে জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেস্পিরেটরি সিনড্রোম) বা ইবোলার মতো নানা ধরনের প্রাণঘাতী ভাইরাসের খবর প্রায়শই সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে। করোনা ভাইরাস তার মধ্যে সর্বশেষ।

করোনা ভাইরাস কী এবং কীভাবে ছড়ায়?
করোনা ভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস যা এর আগে কখনও মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি।

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটিও এক ধরনের করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতোমধ্যেই ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। যার ফলে এটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এই ভাইরাস খুব দ্রুত একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এটি মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠাণ্ডা লাগার মতো করেই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

এক দশক আগে সার্স নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল সেটিও এক ধরনের করোনা ভাইরাস ছিল। এতে আক্রান্ত হয়েছিল ৮ হাজারের বেশি মানুষ।

এছাড়া, ২০১২ সালে অন্য একটি ভাইরাসজনিত রোগ মিডল ইস্টার্ন রেস্পিরেটরি সিনড্রোম বা মার্স- এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ৮৫৮ জনের।

আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে কী লক্ষণ দেখা যায়?
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর এবং কাশি। কিন্তু এর পরিণামে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তার পর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এর এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।

এই ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের দুই শতাংশ মারা গেছেন এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া এমন মৃত্যুও হয়ে থাকতে পারে যা চিহ্নিত করা যায়নি, জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাই এ ভাইরাস ঠিক কতটা ভয়ংকর তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যেভাবে ছড়িয়েছে ভাইরাসটি
মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রোগের সূচনা। গত ৩১ ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে চীন কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি এতে প্রথমবারের মতো একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

ঠিক কীভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তা এখনও নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা বলছেন, কোনো প্রাণি এই ভাইরাসের উৎস ছিল। প্রাণি থেকেই প্রথমে ভাইরাসটি কোনো মানুষের দেহে ঢুকেছে এবং পরে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে।

সার্স ভাইরাস প্রথমে বাদুড় এবং পরে গন্ধগোকুল থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। মার্স ভাইরাস ছড়ায় উট থেকেও। এর সাথে উহান শহরে সামুদ্রিক খাবারের একটি বাজারে গিয়েছিল এমন লোকদের সম্পর্ক আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই বাজারটিতে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণি বেচাকেনা হতো।

কিছু সামুদ্রিক প্রাণি যেমন বেলুগা জাতীয় তিমি করোনা ভাইরাস বহন করতে পারে। তবে উহানের ওই বাজারে জ্যান্ত মুরগি, বাদুড়, খরগোশ এবং সাপ বিক্রি হতো। এগুলোর কোনো একটি থেকে নতুন এই ভাইরাস ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ভাইরাসটি এখন চীনের অন্যান্য শহর ছাড়াও থাইল্যান্ড, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এক ব্যক্তির দেহে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ওই ব্যক্তি উহানে গিয়েছিলেন বলেও জানানো হয়।

এর চিকিৎসা কী?
যেহেতু ভাইরাসটি নতুন, তাই এখন পর্যন্ত এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন নেই এবং এমন কোনো চিকিৎসা নেই যা এ রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

রক্ষা পাওয়ার উপায় কী?
একমাত্র উপায় হলো যারা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এই ভাইরাস বহন করছেন তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. গ্যাব্রিয়েল লিউং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এক নির্দেশনায় বলেছেন, হাত সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং বার বার হাত ধুতে হবে। হাত দিয়ে নাক বা মুখ ঘষা যাবে না, ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে মুখোশ পরুন, আর নিজে অসুস্থ না হলেও, অন্যের সংস্পর্শ এড়াতেও মুখোশ পরুন।’

এদিকে উহান শহরে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসে কমপক্ষে ১৫ জন চিকিৎসাকর্মী নিজেরাই এতে আক্রান্ত হয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত