২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ১৩:৩৩
প্রথাবিরোধী লেখক, ভাষাবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. হুমায়ুন আজাদের উপর আক্রমণের এক যুগপূর্তি আজ। এ দীর্ঘ সময়ে হয় নি হত্যা মামলার রায়।
২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মক আহত হন ড. হুমায়ুন আজাদ। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানি গিয়ে মারা যান তিনি।
মৃত্যুর এক যুগ পর খ্যাতনামা এ লেখক হত্যার বিচারের রায় কবে হবে এ নিয়ে পরিষ্কার কোন আভাষ পাওয়া না গেলেও মামলার কার্যক্রম শেষের পথে। আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমানকে আসামি পক্ষের জেরা শেষ করার কথা রয়েছে। এটা হয়ে গেলে সাক্ষীদের সাক্ষ্যদান পর্ব সমাপ্ত হবে। এরপর আসবে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্যের সুযোগ। এর পরপরই ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. রুহুল আমিন রায়ের দিন ধার্য করবেন।
সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান মামলাটির মূল তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন। তিনিই মামলাটি তদন্তের পর ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল ৫ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- জেএমবির সূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন, হাফিজ মাহমুদ ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু। এদের মধ্যে আসামি নুর মোহাম্মদ ওরফে সাবু পলাতক আছেন।
২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রিজনভ্যান থেকে এ মামলার ২ আসামি সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন এবং রাকিবুল হাসান ওরফে হাফিজ মাহমুদকে ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে এদের মধ্যে রাকিব ওইদিন রাতেই ধরা পড়ে এবং পরে ক্রসফায়ারে মারা যায়।
মামলায় মোট ৩৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা চলমান রয়েছে।
এ মামলার উল্লেখযোগ্য সাক্ষ্যদাতারা হলেন হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির, আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গণি ও ঘটনাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি অনার্সের ছাত্র অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুর রহমান আশিক, ড. হুমায়ুন আজাদের স্ত্রী লতিফা, কবি মোহন রায়হান ও কবি সাংবাদিক নাসির আহমেদ।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একুশে বই মেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে বাংলা একডেমির উল্টোদিকে ফুটপাতে সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মক আহত হন লেখক হুমায়ূন আজাদ। এ হামলায় পর তিনি ২২ দিন সিএমএইচে এবং ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসা নেন। ওই বছরের ১২ আগস্ট তিনি জার্মানির মিউনিখে মারা যান।
আপনার মন্তব্য