২৩ জুন, ২০২৬ ১৯:২৮
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকের একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এমন অভিযোগ করে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, তিনি এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে এই হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এছাড়া পুলিশ কমিশনারকে হুমকী দেওয়া সবগুলো আইডির লিঙ্ক পাঠিয়েছি।’
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তালা ও ডিসি সারওয়ার আলমের বদলি ইস্যুতে গত দুদিন ধরে ফেসবুকে কিছু আইডি থেকে রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সমালোচনা করা হয়।
মাজারের দানবাক্স জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলগালা করার পর এক প্রতিক্রিয়ায় রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছিলেন, মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগকে আমি সমর্থন করি। সকলেই এই ব্যাপারে একমত। তবে যে প্রক্রিয়ায় এই কাজটি করা হয়েছে তা সম্মানজনক হয়নি। মাজার কর্তৃপক্ষকে সাথে নিয়েই এই কাজটি করলে আরও ভালো হতো।
কয়েস লোদীর এমন মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন কেউ কেউ। তাকে হত্যার হুমকী প্রদানের সাথে এই ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে।
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কয়েস লোদী সিলেটটুডেকে বলেন, আমি জানি না কী কারণে এমন হুমকী দেওয়া হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরেই আমাকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কেন বারবার আমাকেই টার্গেট করা হচ্ছে?
তিনি বলেন, ডিসি নিয়োগ বা বদলি এগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। অথচ এসবের কারণেও আমাকে দায়ী করা হচ্ছে।
মাজার ইস্যুতে আমি খারাপ কী বলেছি মন্তব্য করে কয়েস লোদী বলেন, আমি বলেছি, মাজার কর্তৃপক্ষও মাজারের স্বচ্ছতা আনার ব্যাপারে একমত। তাদের সাথে নিয়েই এই কাজটি করা যেতো। আমি ডিসি হলে এই কাজটিই করতাম।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। একইসাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে দানবাক্স বসানো হয়। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার কথা বলে ডেগ সিলাগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিজস্ব দানবাক্স স্থাপন করা হয়।
তবে এ নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রোববার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার এই হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে রবি ও সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ করা হয়।
সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করান সারওয়ার আলম।
আপনার মন্তব্য