১২ মার্চ, ২০১৬ ১২:১৯
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে ৮৫ কোটি ডলার বেহাত হওয়া থেকে ঠেকানো গেছে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া বেহাত হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানানো হয়।
ফেইসবুকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই পোস্টে বলা হয়, “সাইবার আক্রমণে ৩৫টি ভুয়া পরিশোধ নির্দেশের ৯৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের মধ্যে ৩০টি নির্দেশের ৮৫ কোটি ডলার বেহাত হওয়া শুরুতেই প্রতিহত করা গেছে। অবশিষ্ট ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দুই কোটি ডলার এরই মধ্যে ফেরত আনা গেছে।”
শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ফেইসবুক পেইজে এক পোস্টে একথা জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র এ এফ এম আসাদুজ্জামান।
“বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার (প্রায় ৬৩৫ কোটি টাকা) ফেরত আনার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে প্রকাশ পেলেও গত মাসেই ফিলিপিন্সের ‘দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারার’ চীনা হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ কোটি ডলার লোপাট করেছে বলে খবর প্রকাশ করেছিল।
এই অর্থ পাচারের ঘটনাটি এখন বাংলাদেশের সঙ্গে ফিলিপিন্সেও আলোচিত ঘটনা। সেখানেও এর তদন্ত চলছে।
ইনকোয়ারার বলেছে, সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ সরানো হয় ফিলিপিন্স ও শ্রীলঙ্কার ব্যাংকে।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তরের আদেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী অর্থ চলে যায় দুই দেশের দুই ব্যাংকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই পোস্টে আরও বলা হয়, “ভবিষ্যৎ সাইবার আক্রমণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি প্ল্যাটফরমে আধুনিকতম প্রতিরোধ ব্যবস্থার সন্নিবেশও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনোরূপ বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।”
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, একটি বানান ভুল দেখে শ্রীলঙ্কার ব্যাংক কর্মকর্তাদের সন্দেহ, আর তাতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ কোটি ডলার লোপাট হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
এই ২ কোটি ডলার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা সরানোর চেষ্টা করেছিল।
শ্রীলঙ্কায় সফল না হলেও ৮ কোটি ডলার ফিলিপিন্সে সরাতে পেরেছিল হ্যাকাররা। সেই অর্থের একটি অংশ ইতোমধ্যে ব্যাংক চ্যানেলের বাইরে চলে গেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আপনার মন্তব্য