সিলেটটুডে ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৮:৩৬

আসন সমঝোতায় এনসিপির যেসব নেতাকে ছাড় দেবে জামায়াত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। গত কয়েকদিন ধরেই এ নিয়ে রাজনীতিতে আলোচনা চলছে।

এরমধ্যে রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

জামায়াত ও এনসিপি সূত্রে জানিয়েছে, দল দুটির জোট নিয়ে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। জোট হলে তারা কিভাবে কাজ করবে এবং কোন আসনে কে বা কারা প্রার্থী হবেন, কোন দলের কতজন প্রার্থী থাকবে, সে সব বিষয়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে আজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াত এনসিপির জন্য ৩০টির মতো আসন ছেড়ে দিতে পারে।

এর মধ্যে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যান্য পরিচিত কয়েকজন নেতার আসনে ছঅড় দেওয়া হবে। ডা. তাসনিম জারার আসনেও ছাড় দিতে সম্মত ছিলো জামায়াত। তবে শনিবার এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন জারা। সিলেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেও এনসিপিকে জামায়াত ছাড়া দিতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

জামায়াতের একটি সূত্র জানায়, এনসিপির শীর্ষ ৫ জন নেতার আসন নিশ্চিতের বিষয়ে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। বাকি ১৫ জনের ব্যাপারে পর্যালোচনা চলছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

রোববার সংবাদ সম্মেলনেও জামায়াত আমির বলেন, ৩০০ আসনেই নির্বাচনি সমঝোতা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং প্রায় সব আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত। শেষপর্যায়ে যুক্ত হওয়া দুই দলের (এনসিপি ও এলডিপি) কারণে কিছু কারিগরি বিষয় রয়ে গেছে, যা মনোনয়ন দাখিলের পর পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, জামায়াত আমির বলেন, জোটের অধিকাংশ আসন নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। কয়েকটি এখনও বাকি আছে। তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর এগুলো ঠিক করা যাবে।

এদিকে সমঝোতা বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গেই অন্য দলগুলোর মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হতো। সেখানে সংস্কারের পয়েন্টগুলোতে ন্যাচারালি (স্বাভাবিকভাবেই) এনসিপি, জামায়াত এবং অন্য দলগুলো একমত হয়েছে। সেক্ষেত্রে সংস্কারের বিষয়, দেশটাকে নতুন করে গড়া, নতুনভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে গড়ে তোলার জন্য যে রাজনীতি, সে রাজনীতির প্রতি যে কমিটমেন্ট সেটাকেই নির্বাচনী রাজনীতিতে জোটের বা সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রধানতম বিবেচ্য বিষয় হিসেবে এটাকে মূল্যায়ন করছি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, আমাদের চেষ্টা রয়েছে, সংস্কারপন্থী বা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যারা তাদের সঙ্গে বোঝাপড়া করার। আমরা সে বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।


আর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমাদের শরিক ৮ দলের বাইরেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনসিপির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাব।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত