স্পোর্টস ডেস্ক

২৭ জুন, ২০২৪ ১২:১৬

আফগানিস্তানকে ৫৬ রানে আউট করে ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা

নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়া আর বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়া আফগানিস্তান বিশাল ব্যবধানে হারল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। এই জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা উঠে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে।

দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। আফগানিস্তানকে মাত্র ৫৬ রানে অলআউট করে দিয়ে ফাইনালে উঠার ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন প্রোটিয়া বোলাররাই।

আগুনে বোলিং করলেন মার্কো জানসেন, আনরিখ নর্কিয়া ও ক্যাগিসো রাবাদা। তাদের সঙ্গে তাবরাইজ শামসি দেখান স্পিন ভেলকি। তাতেই লক্ষ্য দাঁড়ায় অল্প। মামুলি মার্কা ৫৭ রানের টার্গেট দক্ষিণ আফ্রিকা ছুঁয়ে ফেলে ৯ উইকেট হাতে রেখেই। ৬৭ বল হাতে রেখে আফগানিস্তানকে ধসিয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ল প্রোটিয়ারা। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতা আফ্রিকান দলটি প্রথমবার সেমিতে খেলেই করল বাজিমাত।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিংয়ের শুরুতে হোঁচট খায় অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকাও। ফজলহক ফারুকি দলীয় ৫ রানে কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়ে দিলে নতুন চমকের আভাস মিলছিল। তারকা এ ওপেনারের সংগ্রহ ছিল তখন মাত্র ৫ রান। তাতেই অল্প রানে ম্যাচ জমিয়ে তোলার পূর্বাভাসই দিয়েছিল এশিয়ার দেশটি। কিন্তু আফ্রিকান টিমটি বিপদ সামলে ওঠায় তেমন কিছুই হয়নি। রিজা হেন্ডরিকস ও এইডেন মার্করামের ব্যাটিংদৃঢ়তায় হেসেখেলেই বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্রোটিয়ারা। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের ৪৩ বলে ৫৫ রানের হার না মানা দুর্দান্ত জুটিতে মাত্র ৮.৫ ওভারেই লক্ষ্য টপকে ৬০ রান তুলে ফেলে তারা। ৫৩ বলে কেবল ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর করে এইডেন মার্করামের দল। ২৯ রানে অপরাজিত থেকে যান রিজা হেন্ডরিকস। ২৩ রান নিয়ে তাকে সঙ্গ দিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে যান দক্ষিণ আফ্রিকান ক্যাপ্টেন মার্করাম।

ক্রিকেট দুনিয়াকে অবাক করে সেমিফাইনালে পা রেখেছিল আফগানিস্তান। প্রত্যাশা ছিল শেষ চারে দারুণ কিছুই করবে তারা। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ব্যাট-বলে লড়াই জমিয়ে তোলার। স্বপ্ন ছিল সেমিফাইনালে ওঠার। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তার ছিটেফোঁটাও মিলল না আফগানদের ব্যাটিংয়ে। উল্টো দক্ষিণ আফ্রিকার পেসঝড় আর ঘূর্ণিজাদুতে ৫৬ রানে গুটিয়ে গিয়ে লজ্জার রেকর্ড গড়েছে রশিদ খানেরা। রশিদ খানদের ব্যাটিং অভিযাত্রা থেমেছে মাত্র ১১.৫ ওভারেই।

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়াম ব্যাটিংবান্ধব নয়। সবাই ধরেই নিয়েছিল স্কোর হবে অল্প। কিন্তু তাই বলে শুরুতে মাঠে নেমেই এতটা খারাপ ব্যাটিং করবে টস জেতা আফগানিস্তান, তা হয়তো কল্পনাই করেনি কেউ। গ্রুপ পর্ব আর সুপার এইটে চমক দেখানো কোচ জোনাথন ট্রটের শিষ্যদের নিয়ে দুর্দান্ত কিছুরই প্রত্যাশা ছিল ক্রিকেট অনুরাগীদের।

নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল আফগানিস্তান। স্বপ্ন ছিল প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলার। কিন্তু প্রোটিয়াদের দাপুটে বোলিংয়ের সামনে তাদের সে আশা গুঁড়িয়ে গেছে নিমেষেই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটাই আফগানিস্তানের সর্বনিম্ন স্কোর। অন্যদিকে পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির নকআউট পর্বে সর্বনিম্ন সংগ্রহও এটি। আগের রেকর্ডটি ছিল বোতসোয়ানার। ২০২৩ এসিএ কাপের সেমিফাইনালে উগান্ডার কাছে ৬২ রানে অলআউট হয়েছিল তারা।

বল হাতে মাঠে নেমেই পেসঝড় তোলেন মার্কো জানসেন, আনরিখ নর্কিয়া ও ক্যাগিসো রাবাদা। ত্রয়ী পেসারের ক্ষুরধার বোলিংয়ের সঙ্গে ঘূর্ণিজাদু দেখান তাবরাইজ শামসি। তাতেই মুখ থুবড়ে পড়ে রশিদ খানদের ব্যাটিং অর্ডার। জানসেনের তোপে রহমানুল্লাহ গুরবাজ শূন্য রানে ফিরতেই মড়ক লেগে যায় আফগানদের ব্যাটিং লাইনআপে। দলীয় স্কোর তখন মাত্র ৪ রান। প্রোটিয়া পেসে একদিকে ঝলসে যেতে থাকে আফগান ব্যাটাররা, অন্যদিকে স্পিনবিষেও নীল হতে থাকে গুরবাজরা। ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে উঠতে না পেরে তাসের মতো উড়ে ২৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে এবারের আসরের ‘জায়ান্ট কিলার’ টিমটি। ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিল মাঝে খানিকটা বিরতি দিলে সে ৬ উইকেটের বিনিময়েই দলীয় সংগ্রহ ৫০-এ দাঁড়ায় আফগানদের। বাকি ৪ উইকেট ‘নাই’ হয়ে যায় শুধু ৬ রান যোগ হতেই। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১০ রান করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। বাকিরা সন্তুষ্ট থাকেন সিঙ্গেল ডিজিটে। ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজের সঙ্গে মোহাম্মদ নবি ও নুর আহমদ রানের খাতাই খুলতে পারেননি।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন ম্যাচসেরা মার্কো জানসেন ও তাবরাইজ শামসি। ৩ ওভারে জানসেন খরচ করেন ১৬ রান আর কিপটেমি বোলিংয়ে ১.৫ ওভারে শামসি দেন মাত্র ৬ রান। ৩ ওভার বল করে ৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মিতব্যয়ী নর্কিয়া। ক্যাগিসো রাবাদা ১ মেডেনসহ নেন ২টি উইকেট।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত