২৩ জুন, ২০২৬ ১৬:৩০
নিউ জার্সির বৃষ্টিভেজা কর্দমাক্ত মাঠেই রচিত হলো নরওয়েজিয়ান ফুটবলের এক নতুন মহাকাব্য। আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছরের খরা কাটাল নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চের শেষ বত্রিশে (রাউন্ড অব ৩২) জায়গা করে নিল ইউরোপের এই দেশটি। আর এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের মহানায়ক আর কেউ নন, গোলমেশিন আর্লিং ব্রাউট হালান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই গতির ঝড় তুলে সেনেগালকে চেপে ধরে নরওয়ে। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে আফ্রিকান ডিফেন্সের এক ভুলের সুযোগ নিয়ে প্রথম ডেডলক ভাঙেন বদলি হিসেবে নামা মার্কাস পেডারসেন। তাঁর নিখুঁত শটে ১-০ তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় নরওয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দেখা মেলে মার্টিন ওডেগার্ড ও আর্লিং হালান্ডের জাদুকরী রসায়নের। ৪৮ মিনিটে ওডেগার্ডের চমৎকার এক পাস ধরে সেনেগালের রক্ষণভাগ চিরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। তবে লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া সেনেগাল ৫৩ মিনিটে সাদিও মানের পাস থেকে ইসমাইলা সারের গোলে ব্যবধান কমায় (২-১)।
কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যার পায়ে, সেই হালান্ডকে আটকে রাখার সাধ্য ছিল না সেনেগালের। ৫৮ মিনিটে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালির আরেকটি ভুলের ফায়দা লুটে প্যাট্রিক বার্গের সহায়তায় দুর্দান্ত এক ভলিতে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন হালান্ড। এই জোড়া গোলের পর নরওয়ের জার্সিতে এই স্ট্রাইকারের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৫২ ম্যাচে ৫৯টি।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইসমাইলা সার সেনেগালের হয়ে আরও একটি গোল করে ব্যবধান ৩-২ করলেও তা নরওয়ের জয়োৎসব থামাতে পারেনি। এই গোলের মাধ্যমে সার প্রথম সেনেগালিজ ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন।
খেলা শেষে পুরো নরওয়ে দল গ্যালারির সামনে সারিবদ্ধভাবে বসে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে মেতে ওঠে, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হালান্ড বলেন, "২৮ বছর পর বিশ্বকাপে এসে গ্রুপ পর্ব পার হওয়া আমাদের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি। তবে এখনই বিশ্বকাপ জয়ের মতো অলীক স্বপ্ন নিয়ে আমরা ভাবছি না।"
এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর গ্রুপ 'আই' থেকে ফ্রান্সের সাথে যৌথভাবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করল নরওয়ে।
আগামী ২৭ জুন বোস্টনে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে ফরাসীদের মুখোমুখি হবে তারা। অন্যদিকে টানা দুই হারে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা সেনেগালকে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে ইরাকের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের দিকে।
আপনার মন্তব্য