০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:৩০
ছবি: সংগৃহীত
সারের জার্সি গায়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে ২০২৪ সালে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন সাকিব আল হাসান। তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, আর বছর শেষে লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় সেই সন্দেহ সত্যিও প্রমাণিত হয়। পরীক্ষায় ব্যর্থতার পরই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) তাঁকে নিজস্ব সব প্রতিযোগিতায় বোলিং থেকে বিরত রাখে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয় আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী।
কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে একটি পডকাস্টে। ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’–এর সঙ্গে আলাপে সাকিব জানালেন, ওই সময় তিনি ইচ্ছে করেই অ্যাকশনে কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। তাঁর কথায়, এক ম্যাচে ৭০ ওভারের বেশি বল করার ক্লান্তি তাঁকে যেন স্বাভাবিক রিদম থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছিল। টনটনে সারের হয়ে সমারসেটের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে সেই ক্লান্তি থেকেই নাকি অ্যাকশনে ত্রুটি ঢুকে পড়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা হাশিম আমলার সঞ্চালনায় সেই পডকাস্টে সাকিব বলেন, পাকিস্তানে টানা দুটি টেস্ট খেলে ইংল্যান্ডে যাওয়ার পর শরীর ভেঙে পড়েছিল। আম্পায়ার তাঁকে আগেভাগে সতর্ক করতে পারতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি, তবে নিয়ম মানতে হয়েছে বলেই কোনো অভিযোগ নেই।
প্রথম পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর নিজের অ্যাকশন বিশ্লেষণ করে তিনি বুঝতে পারেন ঠিক কোথায় সমস্যা। এরপর সারেতে ফিরে কয়েক সপ্তাহের অনুশীলন—দুটো মাত্র সেশনই বদলে দেয় সবকিছু। তাঁর ভাষায়, “তখন মনে হলো, আরে, এটা তো খুব সহজ।”
গত মৌসুমে সারের হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেললেও, দুই ইনিংসে তিনি বল করেছেন ৬৩.২ ওভার—যা তাঁর ক্লান্তির গল্পটাকেই আরও বাস্তব করে তোলে। লাফবরোতে দু’বার ও চেন্নাইয়ে একবার পরীক্ষার পর অবশেষে তৃতীয় প্রচেষ্টায় তিনি অ্যাকশনে কৃতকার্য হন। চেন্নাইয়ে ব্যর্থতার পর বিসিবি নির্বাচকেরা তাঁকে চ্যাম্পিয়ানস ট্রফির দলে রাখেননি, যদিও ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার অনুমতি ছিল।
বর্তমানে সাকিব খেলছেন আরব আমিরাতের ইন্টারন্যাশনাল টি–টোয়েন্টি লিগে এমআই এমিরেটসের হয়ে। অভিষেক ম্যাচেই শারজা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে জিতেছে তাঁর দল। ১২ বলে ১৬ রান করার পর, দলীয় কৌশলে তাঁকে রিটায়ার্ড আউট করে নেওয়া হয়— স্বীকৃত টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এমন অভিজ্ঞতা হলো সাকিবের।
আপনার মন্তব্য