বড়লেখা প্রতিনিধি

৩১ মার্চ, ২০২২ ২৩:৫৫

বড়লেখায় উৎসবে-আয়োজনে প্রাণের বইমেলা

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসে ভিড় করেছেন বইমেলায়। অনেকেই তাদের পছন্দের বই কিনে নিয়ে ফিরছেন। উপস্থিত লেখকদের কাছ থেকে অটোগ্রাফ নিচ্ছেন। মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন অনেকে। পুরো এক দিনই উৎসবের মতো পরিস্থিতি ছিল বইমেলায়।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে এমনই উৎসবের রং ছড়ানো পরিবেশ তৈরি হয়েছিল মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরশহরেরর বড়লেখা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে বইমেলা প্রাঙ্গণে। বড়লেখা নজরুল একাডেমি চতুর্থ বারের মতো এই বইমেলার আয়োজন করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বইমেলা চলে।

বইমেলায় গান, নৃত্য, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, স্থানীয় লেখকদের নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সকালে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আকমল হোসেন নিপু।

উদ্বোধনী পর্বের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নজরুল একাডেমির সভাপতি ও বড়লেখা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন নন্দী। প্রধান অতিথি ছিলেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ।

উপজেলা স্কাউটের যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবু ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু আহমদ হামিদুর রহমান শিপলু, লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, বড়লেখা প্রেসক্লাবের সভাপতি অসিত রঞ্জন দাস ও সাধারণ সম্পাদক গোপাল দত্ত, কাউন্সিলর রেহান পারভেজ রিপন, উপজেলা স্কাউট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, সাংবাদিক লিটন শরিফ প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নজরুল একাডেমির উপদেষ্টা ও বইমেলার সমন্বয়ক জুনেদ রায়হান রিপন।

বইমেলা উপলক্ষে জুনেদ রায়হান রিপন ও তপন কুমার দাসের সম্পাদনায় আলোকরেখা নামে একটি সাময়িকী প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বইমেলায় মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে অসিত রঞ্জন দাসের বড়লেখায় বাম রাজনীতি, দিল আফরোজ আমিনের এপার বাংলার বাবরি মসজিদ, নজরুল ইসলামের ইলোরা, অরুন চন্দ্র দাসের শিকার, গীতাংশু দলপতির সাহারার মাঝে, মৃণাল কান্তি দাসের হচ্ছি জখম ভীষণ রকম ও শিশুতোষ বই ছোট মামার ভূত রহস্য, কয়েছ আহমদ বকুলের মন জ্যোছনা, সমীরণ দাসের গানের বই গীত মাধুরী, প্রদীপ চক্রবর্তীর অপরাজিতার গায়ে সন্ধ্যা, শাহরিয়ার শাকিবের কয়েকটি সন্ধ্যাতারা, ফরিদা ইয়াছমিন নার্গিসের সেদিন বসন্তে, ইকরামুল শামীমের শেখ হাসিনা তোমাকে বলছি, মাসুম উল্লাহ খন্দকারের কুড়ানো স্বপ্ন, শুভাশীষ রায়ের হেম রঙ খাম, মান্না পালের গল্পে গল্পে নীতিশিক্ষা ও আজাদুর রহমানের অপ্রিয় অপ্রেমিক বইসমূহের। এদিকে বইমেলা উপলক্ষে শিশু-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বইমেলার মঞ্চে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে স্থানীয় শিল্পীরা গান, কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। মেলার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখায় বড়লেখা উপজেলার সাত মুক্তিযোদ্ধাদেকে সম্মাননা জানানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ৭ জনকে সম্মাননা জানানো হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী।

নজরুল একাডেমির উপদেষ্টা ও বইমেলার সমন্বয়ক জুনেদ রায়হান রিপন বলেন, ২০১৯ সাল থেকে আমরা বইমেলার আয়োজন করছি। এবার বইমেলা উপলক্ষে আমরা আলোকরেখা নামে একটি সাময়িকী বের করেছি। এতে আমরা বড়লেখার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যাতে ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্ম এই অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে। আমরা এই বইমেলা ধারাবাহিক চালিয়ে যাবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত