জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ

১৪ জুলাই, ২০২২ ১২:২৮

গোলাপগঞ্জে ভিজিএফের চাল ‘আত্মসাতের চেষ্টা’

ঈদুল আজহার আগে গরীব অসহায়দের মধ্যে বিতরণের জন্য ভিজিএফ’র চাল পাওয়া গেছে ইউপি সচিবের পাশের রুমে। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ইউএনও। তিনি ৩০/৪০ বস্তা চাল সেখানে দেখার পর চালগুলো বিতরণের নির্দেশ দিয়ে দায় সারেন। চালবাজির চাল নিয়ে সৃষ্ট এই ঘটনার পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ইউপি সদস্যরা বলছেন-সব চাল বিতরণ করা হয়ে গেছে। তাহলে প্রশ্ন- এই চালগুলো উৎস কি ? যার উত্তর পাওয়া যায় নি ঘটনায় জড়িতদের কাছ থেকে। ঘটনাটি প্রকাশ ঘটে বুধবার (১৩ জুলাই) উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নে।

জানা গেছে, ঈদের পূর্বের দিন উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রহিম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তাফিজুর রবের পাশের রুমে প্রায় ৩০/৪০ বস্তা চাল দেখতে পান। সে সময় সেখান থাকা সচিব ও গ্রাম পুলিশকে চালগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব ও গ্রাম পুলিশ জানান  ‘এই চালগুলো ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফখরুল ইসলাম ফখরের।’

সত্যতা জানার জন্য ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম এসময় অপর ইউপি সদস্য ফখরুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি তা অস্বীকার করেন। পরে ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম ওই রুমে একটি তালা মেরে দেন।

এরপর মঙ্গলবার (১২ জুলাই) রাতে খবরটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে এলাকাবাসী এই চালের ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেন। আজ বুধবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি মান্নান সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি রুমে চালগুলো দেখতে পান। এরপর তিনি চালগুলো কেন রাখা হল সে বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহিমের কাছে জানতে চান।

এসময় আব্দুর রহিম জানান, ‘এই চালগুলো বণ্টনের বাকি ছিল। ঈদের আগে সময়ের অভাবে বণ্টন করা সম্ভব হয়নি।’ এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি মান্নান এগুলো বণ্টনের নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ফখরুল ইসলাম ফখর জানান, ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে ভিজিএফ'র কিছু চাল রাখা ছিল। এ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রহিম চালগুলো দেখতে পেরে সেখান থাকা সচিব ও গ্রাম পুলিশকে কারণ জানতে চাইলে তারা চালগুলো আমার বলে চালিয়ে দেয়।  আসলে আমিতো ঈদের আগে ভিজিএফের চাল বণ্টন করে দিয়েছি। বিষয়টা জেনে আমি হতবাক হয়েছি।

ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আব্দুর রহিম জানান, ইউনিয়ন পরিষদের একটি রুমে চাল দেখে তালা মেরেছিলাম। এটা আজ ইউএনও'র সরেজমিনে এসে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন।

চাল গুদাম ঘরে না রেখে কেনো অন্য রুমে রাখা হল এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহিম জানান, কিছু চাল বণ্টনের বাকি ছিল। এজন্য এ চালগুলো এই রুমে রাখা হয়েছিল। সব ইউপি সদস্য চাল বণ্টন করে ফেলেছে-তাহলে এগুলো কার কোথা থেকে এলো? এমন প্রশ্ন করলে তিনি এর জবাব দিতে পারেননি।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি মান্নান সাংবাদিকদের জানান, আমি সরেজমিনে গিয়ে একটি রুমে চাল রাখার প্রমাণ পেয়েছি। এরপর চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। উনি চালগুলো বণ্টন না হওয়ায় রাখা হয়েছে বলে জানান। এরপর আমি চালগুলো বণ্টনের নির্দেশ প্রদান করি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত