ওসমানীনগর প্রতিনিধি

১৮ জুলাই, ২০২২ ১২:৪১

দিনে ৮ থেকে ৯ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না

সিলেটের ওসমানীনগরে লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিংও। ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

হঠাৎ করে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভ্যাপসা গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। রোববার রাতে উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশনের পাশে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক দুই ঘন্টা অবরোধ করে রাখেন বিক্ষোব্ধ গ্রাহকরা।

তাদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে ওসমানীনগরে। আবার ঘন্টায় ৪ থেকে ৫ বার লোডশেডিংও হচ্ছে। এমন অবস্থায় হাঁপিয়ে উঠছে গ্রাহকদের জনজীবন।

গত দুদিন ধরে রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত একটানা ৮ থেকে ৯ ঘন্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে যাবার পর থেকে বন্ধ করে রাখা হয় পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ও এজিএমএর মোবাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা চেষ্ঠা করে ডিজিএম সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। বদ্যুৎ অফিসে বার বার ফোন করেও কোনো সাড়া পায় না গ্রাহকরা।

পল্লী বিদ্যুেেতর এমন অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খামখেয়ালী আচরণের কারণে ফুঁসে উঠছেন উপজেলা ৭৮ হাজার গ্রাহক।

জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সারা উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সকাল সাড়ে সাতটায় বিদ্যুতের দেখা পাওয়া গেলেও ভ্যাপসা গরমে নির্ঘোম রাত কাটয়েছেন অনেকেই। পরদিন শনিবার রাত ১১টার দিকে লোডশেডিং শুরু হয় উপজেলা জুড়ে। পরদিন সকাল ৮টায় মিলে বিদ্যুৎ। তাও আবার স্থায়ী নয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য। এই গরমে এতো লম্বা লোডশেডিংয়ের কারণ জনতে গ্রহকরা কাশিকাপন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের মোবাই নাম্বারে বার বার কলে দিলেও সংযোগ পান না। একই সাথে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ভাবিয়ে তুলছে গ্রাহকদের। এমন পরিস্থিতিতে গ্রহকরা রোববার রাত ৯ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
 
গ্রাহকদের অভিযোগ, দেশের সকল জায়গায় বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে লোডশেডিংয়ের রুটিন করা হলেও ওসমানীনগরে কোন রুটিন বা নিয়ম মানা হচ্ছে না। এই গরমে দিন ছাড়াও সারা রাত ধরে লোডশেডিং হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রচন্ড গরমের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের অনেকেই জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে স্থানীয় হাসপাতালসহ চিকিৎসা কেন্দ্রে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সেবাগ্রহীতার ভিড় বাড়ছে। সব মিলিয়ে প্রচন্ড গরম ও লোডশেডিংয়ে উপজেলার সর্বত্রই জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি ও দুঃসহ যাতনা।

উপজেলার কয়েকজন গ্রাহক জানান, দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ওসমানীনগরে সারা রাত লোডশেডিং হচ্ছে। অন্য এলাকায় রুটিন থাকলেও ওসমানীনগরে মনগড়া ভাবে লোডশেডিং করে গ্রাহকদের উসকিয়ে তুলছেন পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খাশিকাপন পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, গত শনিবার রাতে আমাদের এখানে সমস্যা ছিল না। কিন্তু রোববার বিশ্বনাথের মূল সরবরাহ লাইনের দুটি তার ছিড়ে যাওয়ায় আমাদের ওখানে বিদ্যুৎ ছিল না। আমরা সর্বাত্মক চেষ্ঠা করছি যাতে নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত