জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ

০৭ নভেম্বর, ২০২৪ ২১:২২

গোলাপগঞ্জে নদী ভাঙনে নিঃস্ব হওয়ার পথে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

সুরমা নদীর দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ আলী। চোখেমুখে আতঙ্ক। দু চোখ পানিতে টলমল করছে। কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, চোখের সামনেই ধীরে ধীরে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। মাথাগোঁজার একমাত্র ঠাঁই বাড়ির বেশ অর্ধেক সুরমা নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে। যেকোনো সময় বাকিটুকুও তলিয়ে যাবে। তিনি তার শেষ সম্বল বাড়িটি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ আলী গোলাপগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কামারগাঁওয়ের বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুরমা নদীর দক্ষিণপারে মৌলভীর খালের মুখে অবস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ আলীর বাড়ির দশ শতাংশের প্রায় অর্ধেক ভাঙন কবলে পড়ে হারিয়ে গেছে। বাকি অংশেও দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। তিনি স্ত্রী সন্তান নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন।

শুধু হানিফ আলীই নয় আশপাশের অনেক লোকের ঘরবাড়ি ও অনেক স্থাপনা নদী ভাঙনে একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। শত শত পরিবার নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

জানা যায়, প্রতি বছর অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সুরমা নদীতে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এসব ফাটলে প্রতিনিয়ত নদী তীরবর্তী শত শত ঐতিহাসিক স্থাপনা, মসজিদ, মাদ্রাসা স্কুলসহ নানা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

তৈয়বুর রহমান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, গত বছরের অবৈধভাবে অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের ফলেও অবিরত ভাঙন বড় হতে থাকে। এরফলে বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ আলীসহ অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তিনি ভাঙন রোধ কল্পে যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণসহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের ব্যাপারে উচ্চ মহলের দৃষ্টি কামনা করেন।

স্থানীয় কামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এনাম আহমদ জানান, যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালে এদেশ স্বাধীন করতে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে ছিলেন একটু শান্তির আশায়, আজ নিজেই তিনি সংকটে। এখন সুরমা নদী ও খালের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হচ্ছে। তার এ বিপদকালে কেউই এগিয়ে আসছে না। তিনি জাতির এ শ্রেষ্ঠ সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই বাড়িটি সুরমা নদী ভাঙন কবল থেকে রক্ষায় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ আলী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এব্যাপারে কেউ যোগাযোগ করেনি। এইমাত্র আমি বিষয়টা জানলাম। আমি এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত