নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২১:২৪

ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের আন্দোলন: দিনভর যা হলো

সিলেট  অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে চারদিন ধরে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযান শুরুর আগেই মহানগর পুলিশ কমিশনার ঘোষণা দিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা নগরে চলতে দেওয়া হবে না।  চলমান অভিযানেও পুলিশ সবচেয়ে বেশি কঠোর অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে।  এতে ক্ষুব্ধ ছিলেন রিকশা চালকরা।  বৃহস্পতিবার সংঘবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পারমিটের দাবিতে ‘সিলেট ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

শহরের চৌহাট্টা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকেন শত শত রিকশাচালক। পরে দুপুর ১২টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে চৌহাট্টা পয়েন্টে এসে পৌঁছান এবং সেখানে সড়কে বাঁশ ফেলে অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে পুলিশি উপস্থিতিতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়নি। চালকদের উত্তেজিত স্লোগানে পুরো এলাকা সরব হয়ে ওঠে।

মিছিল শেষে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে রওনা হন। পথে পথে তারা ‘পারমিট চাই’, ‘রিকশা চালাতে দাও’, ‘গরিবের পেটে লাথি মেরো না’- এমন নানা স্লোগানে উত্তাল করে তোলেন নগরীর রাজপথ।

মিছিল শেষে চালকরা বন্দরবাজার পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সমবেত হন এবং সেখান থেকেও একই দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক , পুলিশ এবং সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে শ্লোগান দেন তারা। এছাড়া বন্দরে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের ওপর আক্রমণ করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে তিনটা পর্যন্ত রিকশাচালকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান। পরে তারা তাদের দাবির পক্ষে স্মারকলিপি পেশ করেন। এসময় জেলা প্রশাসকের কর্মকতূাদের সাথে বৈঠকও করেন তারা।

স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিলেটের উপ পরিচালক সুবর্ণা সরকার বলেন, আজ জেলা প্রশাসক স্যার শহরের বাইরে আছেন। তিনি আসলে রিকশাচালকদের দাবিদাওয়ার বিষয়গুলো জানাবো। তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে, গত তিনদিন ধরে সিলেট নগরীতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে চালানো বিশেষ অভিযানে শতাধিক যানবাহন আটক ও মামলা করা হয়েছে। বুধবার অভিযানের তৃতীয় দিনে ৬৯টি যানবাহন আটক করা হয়, যার মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি।

এ ছাড়াও ৩১টি যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় মামলা করা হয়েছে। আটক করা যানবাহনের মধ্যে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়িও ছিল।

অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর শামীমাবাদ এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ১১টি গ্যারেজের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ১৪৫ ফুট বৈদ্যুতিক তার, ১৮০টি চার্জিং পয়েন্ট ও ১০টি অবৈধ মিটার জব্দ করা হয়।

তবে রিকশাচালকদের দাবি, তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে চান। পারমিট না দিয়ে রিকশা আটক ও মামলা দিয়ে তাদের পথে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত