১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ২২:৫২
মৃত্যুর এক সপ্তার পর আজ মঙ্গলবার রাতে দেশে এসে পৌচেছে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর দিপঙ্কর দাস দ্বীপের মরদেহ।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মালয়েশিয়ায় কুয়ালালমপুর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে দ্বীপের মরদেহ। এরপর মরদেহ নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন তার স্বজনরা।
সিলেটে মরদেহ ককন আসবে ও কোথায় রাখা হবে এসব তথ্য জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন দ্বীপের ছোটভাই দিবাকর দাস ধ্রুব।
মঙ্গলবার রাত ১০ টায় দেওয়া ওই পোস্টে ধ্রুব লিখেছেন-
ভাই দেশে ফিরেছে। শেষবারের মতো আপনিও তাকে দেখতে পারবেন।
অনেকদিনের অপেক্ষা, দুঃখ, কষ্ট আর প্রার্থনার পর অবশেষে আমাদের প্রিয় ভাই দেশে ফিরে এসেছে—তবে জীবিত নয়, নিথর দেহে। আমরা কেউই ভাবিনি এত দ্রুত এভাবে তাকে হারাতে হবে। হৃদয়ের সব ভালোবাসা, মায়া আর স্মৃতির ভার নিয়ে আজ সে ফিরে এসেছে তার আপন মানুষদের কাছে।
আপনাদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের সবার প্রিয় আমার ভাই দীপংকর দাশ দ্বীপ–কে শেষবারের মতো-
ভাইকে আজ রাত ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত রাখা হবে। (রাস্তায় জ্যামের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে সে ৩টার আগেও বা পরেও পৌঁছাতে পারে।)
সিলেটের টিলাগড়ের গোপালটিলার পুকুরপাড়ে।
এই সময়ে যে কেউ এসে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।
আমাদের বিনীত অনুরোধ, সবাই আমার ভাইয়ের জন্য আশীর্বাদ এবং দোয়া করবেন। যে মানুষটা সবার হৃদয়ে এত জায়গা করে নিয়েছিল, আজ সে নীরবে আপনাদের সবার কাছে শেষবারের মতো আসছে।
সকাল ৭টার পর তাকে নেওয়া হবে আমাদের গ্রামের বাড়ি—
পুটিজুরী, বাহুবল, হবিগঞ্জে।
সেখানে দিনের বেলায় সম্পন্ন করা হবে তার শেষকৃত্য।
আপনারা চাইলে সকাল ৭টার পর পুটিজুরীতেও গিয়ে আমার ভাইকে শেষবারের মতো দেখতে পারবেন।
আজ ভাই নেই—কিন্তু তার স্মৃতি, তার হাসি, তার মানুষের প্রতি ভালোবাসা আজীবন আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে অনুরোধ, ভাইয়ের প্রতি আপনারা যে স্নেহ ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার প্রতিদান হিসেবে শুধু একটি জিনিস চাই—তার আত্মার শান্তির জন্য আশীর্বাদ এবং দোয়া করবেন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ নভেম্বর (বুধবার) ভোরে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে মারা যান একুশ বছরের তরুণ দ্বীপ।
উচ্চ শিক্ষার জন্য গত মাসেই মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন সিলেটের গোপালটিলার বাসিন্দা দ্বীপ।
দ্বীপের আকস্মিক মৃত্যুতে সিলেটজুড়েই শোকের ছায়া বইছে। তার স্বজন-বন্ধুদের পাশপাশি সাধারণ মানুষজনও দ্বীপের এমন মৃত্যুতে আফসোস করছেন। পাশপাশি সকলেরই প্রশ্ন ছিলো কবে দেশে ফিরবে দ্বীপের মরদেহ।
দ্বীপের পরিবার সিলেটের গোপালটিলায় থাকেন। তবে তাদের মূল বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবলের পুটিজুড়িতে । তার বাবা দিব্যোজ্যোতি দাস। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় দ্বীপ।
আপনার মন্তব্য