২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২২:৫৪
সিলেটের কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট চারলেন সড়ক প্রকল্পের মেয়াদ ছিলো আড়াই বছর। অথচ চার বছর পেরিয়ে গেলেওকোজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫০-৬০ শতাংশ। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে ধীরগতিতে।
জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা ও মামলার কারণে এই প্রকল্পের কাজ আটকে আছে বলে জানা গেছে। এই অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর চেষ্টা করছেন সংশ্লিস্টরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৬ কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো জমি অধিগ্রহণ হয়নি। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। সড়কের যেসব জমি অধিগ্রহণে জটিলতা রয়েছে, সেসব জমি অধিগ্রহণ না করেই বিকল্প জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়ে গেলে কাজ শেষ করতে ছয়মাস সময় লাগবে। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় আরও দুই বছর বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে প্রতিদিন শত শত পাথর বোঝাই ভারি ট্রাক চলাচল করে। এতে প্রায় সময় ট্রাক চাপায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা ও মৃত্যু ঝুঁকি এড়াতে নগরীর ভেতর দিয়ে ট্রাক চলাচলের চাপ কমাতে কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক নির্মাণের দাবি ওঠে। অবশেষে সিলেটবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১২-২০১৪ দুই অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়কটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে সড়কটি চারলেনে উন্নীত করার দাবি তোলেন সিলেটবাসী।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। পরের বছর চার লেন সড়কের সঙ্গে দুটি সার্ভিস লেন যুক্ত করে তৈরি করা হয় সংশোধিত প্রস্তাবনা। ২০১৯ সালের দিকে শুধু চারলেনের প্রস্তাবনা জমা পড়ে মন্ত্রণালয়ে। অবশেষে জটিলতা কাটিয়ে ২০২২ সালে কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট চারলেন সড়কের উদ্বোধন করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।
সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, প্রায় ৭২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় মাটির কাজসহ ১১.৮৭১ কিলোমিটার (চারলেন) সড়ক হবে রিজিড পেভমেন্টের। আর ০.৭০০ কিলোমিটার হবে ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের। এছাড়া দুটি পিসি গার্ডার সেতু, ২৪টি ছোট আরসিসি কালভার্ট, দুটি লিংক রোড, ছয়টি বাস-বে, আরসিসি ড্রেনসহ ফুটপাত, সিগন্যাল স্থাপন ও সড়ক রক্ষা ব্যবস্থা ছিল প্রকল্পটিতে।
সওজ’র তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ হবে ৩১.৮২ একর। এতে ব্যয় ধরা হয় ২৪২ কোটি ১২ লাখ টাকা। ১ দশমিক ২ মিটার ডিভাইডার এবং দুই পাশে ৭ দশমিক ৯ মিটার করে ১৫ দশমিক ৮ মিটার প্রশস্ত চারলেন বিশিষ্ট এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২৭ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সড়কটিতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৭ কোটি টাকা।
সওজ জানায়, জমি অধিগ্রহণের চারটি ও পেট্রোল পাম্পের একটি মামলা এবং উচ্চ আদালতে একটি রিট থাকায় চারলেনের এই সড়কে কাজের অগ্রগতি শুরু থেকেই চলছিল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত চারটি মামলার মধ্যে দুইটির অগ্রগতি বেশ ভালো হয়েছে, মীমাংসার পথে। আর দুটি শেষ হতে আরও কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে। ভূমি মালিকগণের সহযোগিতা না পেলে এগুলো শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়কে প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা ১৮ ফুট প্রশস্ত হিসেবে রেকর্ড ছিলো। কিন্তু ২০২৩ সালে বিএস জরিপে সেই সড়ক ৬৪ ফুট হিসেবে রেকর্ড দেখানো হয়েছে। এই ৭ কিলোমিটারের মধ্যে ধুপনিখলা মৌজার দেড় কিলোমিটার রাস্তা এলাকাবাসী ১৮ ফুট হিসেবে রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বাকি ৪৬ ফুটের মালিকানা জনগণের। অবশ্য ৭ কিলোমিটারের মধ্যে বাকি সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমারগাঁও থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার সম্মুখ পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশ দিয়ে ড্রেনেজ নির্মাণও সম্পন্ন হয়েছে এ অংশে। তবে নির্মাণাধীন জায়গায় নয়াবাজার-বাদাঘাট রোড মসজিদ ও সোনাতলা বাজারে একটি পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। এসব জায়গায় স্থানীয়দের বাঁধায় কাজ বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়কস্থ ধুপনিখলা মৌজায় প্রায় ১.৫ কিলোমিটার রাস্তায় কোনো ধরনের কাজ দৃশ্যমান হয়নি। চামাউড়া-সালুটিকর মৌজায় রাস্তার উপর মাটি ফেলা হয়েছে। তবে সড়ক নির্মাণে কোনো কাজ দৃশ্যমান হয়নি। অবশ্য সড়কজুড়ে কালভার্ট ও সংযোগ সেতু নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেক্টা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রকল্পের আওতায় মোট ১২ কিলোমিটার রাস্তা ছিল। এরমধ্যে ৪ কিলোমিটার রাস্তা ছিলো যেখানে কোনো জমি অধিগ্রহণ করা লাগেনি। সে অংশে প্রায় সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৮ কিলোমিটার রাস্তার কাজ আমরা জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই কাজ শুরু করি। ফলে বেশিরভাগ অংশে এখনো কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুইটি মৌজার মধ্যে একটি মৌজার প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ঝামেলা মীমাংসা শেষ হওয়ার পথে। আমরা সেখানে কাজ করে যাচ্ছি। আর আরেকটি মৌজায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে, সেখানে আমরা কাজ করতে পারছি না। তবে জমি সংক্রান্ত ঝামেলা শেষ হলেই আমরা সে অংশে কাজ শুরু করবো।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর কুমারগাও-বাঘাটাদের একটি স্থানে কবরস্থানের কিছু অংশ থাকায় সেখানে কিছু কাজ বাকি রয়েছে।
সূত্র: জাগোনিউজ
আপনার মন্তব্য