নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ২৩:৫৩

প্রথমবারেই বাজিমাত খন্দকার মুক্তাদীরের

অনুমেয়ই ছিলো, নির্বাচিত হলে মন্ত্রীত্ব পাবেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। মঙ্গলবার এলো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। পূর্ণ মন্ত্রী হলেন সিলেট-১ আসনের এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য।

একটি নয়, চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মুক্তাদীর। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।

স্বজ্জন ও শিক্ষিত নেতা হিসেবে তাঁর খ্যাতি রয়েছে মুক্তাদীরের। নির্বাচনী প্রচারে তার পরিশীলিত আচরণ নজড় কেড়েছে সবার। নির্বাচনে জিতে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েই পূর্ণ মন্ত্রীত্ব লাভ করলেন মুক্তাদীর।

গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসন থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুক্তাদীর। মুক্তাদীরের বাবা খন্দকার আব্দুল মালিকও ছিলেন এই আসনের সংসদ সদস্য।

খন্দকার আব্দুল মালিক ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৮ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তবে একদিক দিয়ে বাবাকেও ছড়িয়ে গেছেন ছেলে। তিনবার সংসদ সদস্য হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিলো খন্দকার মালিককে। আর খন্দকার মুক্তাদীর প্রথমবারেই হলেন মন্ত্রী।

এরআগে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও সিলেট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মুক্তাদীর। তবে আওয়ামী লীগ আমলের ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ওই নির্বাচনে ভালোভাবে প্রচারই চালাতে পারেননি তিনি। ফলে হারতে হয় একে আবুল মোমেনের কাছে।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই এক উজ্জ্বল নাম খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল ব্যবসায়ী নেতা ও রাজনীতিবিদ হিসেবে।

সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে স্কুলজীবন শেষ মুক্তাদীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (ব্যবসায় প্রশাসন - ফিন্যান্স) স্নাতকোত্তর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান (সামাজিক বিজ্ঞান) স্নাতকোত্তর, কলা বিভাগ (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) স্নাতক করেন।

২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির বাইরেও বাংলাদেশের পোশাক ও উৎপাদন শিল্পে তিনি একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) সাবেক পরিচালক, তুরস্ক-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সুবিধা কমিটি সদস্য। রপ্তানিমুখী ব্যবসায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহজীকরণে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সমাদৃত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত