১০ মার্চ, ২০২৬ ১৩:২৭
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের কানাইঘাটে নির্বিচারে আবাদি জমির টপলেভেলের মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র আইনের তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি জমি থেকে নির্বিচারে মাটি কাটাচ্ছে। এতে কৃষিজমি কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও সড়ক অবকাঠামোও হুমকির মুখে পডছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক শ এক্সকাভেটর (ভেকু) ও ফেলুডার দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে সরানো হচ্ছে। পৌরসভাসহ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার জমি থেকে মাটি কেটে তুলে পরে এসব মাটি ডাম্প ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও পুকুর ভরাটে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিজমির টপসয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা কমে যায়। এতে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বাডছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাটি পরিবহনে শত শত ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচল করায় গ্রামীণ সরু পাকা সড়ক ভেঙে পড়ছে এবং কাঁচা রাস্তা দেবে র্গত তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নির্বিচারে মাটি কাটা ও পরিবহনের কারণে আশপাশের বসতবাড়ি ও সরকারি স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সঙ্গে ধুলাবালিতে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। এ ছাড়া মাটি বহনকারী ট্রাক ও ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি মাটি বহনকারী একটি ট্রাক্টরের চাপায় এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মাটি ব্যবসায়ী চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব মাটি কাটার কাজে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এক্সকাভেটর ও ফেলুডার ভাড়া করে আনা হচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে মাটি কাটার প্রতিবাদে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন একটি ফেলুডার পুড়িয়ে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষিজমির টপসয়েল কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন এবং গ্রামীণ সরু সড়কে ডাম্প ট্রাক চলাচলও নিষিদ্ধ।
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে কয়েকটি অভিযান চালিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আপনার মন্তব্য