শাকিলা ববি

১৪ মে, ২০২৬ ১৫:১৩

মেয়েকে হারিয়ে নির্বাক ফাহিমার মা, চোখের আড়াল করছেন না অন্য সন্তানদের

নৃশংস ও পৈচাশিক হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া শিশু ফাহিমা আক্তারের মৃত্যুর শোক যেন শেষই হচ্ছে না। আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীরা এসে ভিড় বরছেন ফাহিমাদের বাড়িতে, স্মৃতি চারণ করছেন ছোট্ট মেয়েটির।

আর শোকে প্রায় পাথর হয়ে গেছেন ফাহিমার মা রুবিনা বেগম। এক সন্তানকে হারিয়ে বাকি চার সন্তানতে চোখের আড়াল করছেন না। তাদের নিয়ে বসে রয়েছেন ঘরের এক কোনে।

৫ ভাই বোনের মধ্যে ফাহিমা ছিল চতুর্থ। তার বড় বোন ফাইজা বেগমের বয়স ১৪ বছর, ফারজানার বয়স ১০ বছর, ভাই রিহাদের বয়স ৯ বছর ও রিফাতের ১৩ মাস। আদরের মেয়েকে হারিয়ে তাদের বাবা রাইসুল হকও হয়ে গেছেন স্তব্ধ। ঘর ভর্তি মানুষ কিন্তু এই পুরো পরিবারে বইছে এক অদ্ভুত নীরবতা।

বড় বোন ফাইজা বেগম বলে, আমার বোনটা অনেক আদরের ছিল। ওরে আমি গোসল করিয়েছি। নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দিয়েছি। আমার সঙ্গে খেলা করেছে, আমার সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমিয়েছে। আমার এত মায়ার বোনটাকে কিভাবে মারলো। আমার বোনটাকে যেভাবে হত্যা করেছে এভাবে তারও মৃত্যু চাই। তার ফাঁসি চাই।

ফাহিমার খেলার সাথী ছিল তার আপন চাচাতো বোন ফাবিহা। ফাহিমার যে হাস্য উজ্জ্বল ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেখানেও তার সঙ্গে ছিল ফাবিহা।

ফাবিহার মা ও ফাহিমার চাচী শাহেনারা বেগম বলেন, ফাবিহার লাশ পাওয়ার পর থেকে আমার মেয়েটাও অনেক ভয়ে ভয়ে থাকছে। ঘর থেকে বের হয় না। ফাহিমার ভাই বোনদের মুখ দেখতে অনেক কষ্ট হয়। জাকিরের নিজেরও তিনটি ছোট মেয়ে আছে তার মধ্যে ২টি জমজ মেয়ে। এত মায়াবী বাচ্চাটাকে কিভাবে মারলো এই পাষণ্ড জাকির।

আদরের মেয়ে ফাহিমাকে হারিয়ে আহাজারি করতে করতে এখন অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন রুবিনা বেগম। তার শুধু একটাই কথা ঘাতক জাকিরের ফাঁসি চাই।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (৮ মে) বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুদিন আগে বুধবার (৬ মে) সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো। এরপর সোমবার (১১ মে) রাতে ফাহিমাকে হত্যাকারী তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এই ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত