১২ জুন, ২০২৬ ২১:৩৪
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) দরগাহর দানবাক্সে তালা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ তালা দেওয়া হয়।
শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো.সাওয়ার আলম মাজার পরিদর্শনে গিয়ে এ নির্দেশনা দেন।
শাহজালাল (রহ.) মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান জানান, এক মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষার জন্য ওয়াক্ফ এস্টেটকে দানবাক্সে তালা দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সিলেটের নসের সাথেই জড়িয়ে আছে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর নাম। এই দুই ওলির মাজারে প্রতিদিন ভিড় করেন করেন অসংখ্য ভক্তরা। দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকরাও আসেন মাজার দুটিতে।
তবে এই দুই মাজারের আয় ব্যয়ের হিসেব নিয়ে এতোদিন প্রশ্ন ছিলো। মাজারগুলোর বিপুল আয় কীভাবে ব্যয় হয় এমন প্রশ্নও ছিলো অনেরে মনে। এবার মাজারগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসেবে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, এসব মাজারে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসেন ভক্তরা। কেউ প্রার্থনা নিয়ে, কেউ মানত নিয়ে। সেই সঙ্গে দান করেন অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু ও নানা মূল্যবান সামগ্রী।
কিন্তু কয়েক শতাব্দী ধরে জমে ওঠা দানের অর্থের হিসাব থেকে গেছে আড়ালেই। দীর্ঘদিন পর অবশেষে মাজারের আয়ব্যয়ের হিসেবে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সিলেটের ঐতিহাসিক দরগাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্যোগে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সভায় মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অস্পষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিলেট জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে।
গত বুধবার সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিলেট সিটি করপোরেশন, ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দরগাহ দুটির বর্তমান আয়-ব্যয়, দান-অনুদান, প্রশাসনিক কাঠামো, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন কমিটির পক্ষ থেকে সুসংগঠিত আর্থিক রেকর্ড ও নির্ভরযোগ্য হিসাবপত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ঘাটতির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাবপত্র চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও জানা গেছে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় পরিচালনা এবং নিয়মিত অডিটের বিষয়েও মতামত দেন।
এরপর শুক্রবার দুপুুরে শাহজালাল (র.) মাজার পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
এসময় তিনি বলেন, মাজারগুলোর আয় ব্যয়ের মধ্যে কোনো সচ্ছতা নেই। ওদের কাছে কোনো হিসাব নেই। তিনি বলেন, আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট এবং মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করবে। এই সময়ের মধ্যে আয়-ব্যয়ের সঠিক চিত্র, দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। এজন্য মাজারের দানবাক্সে আপাতত তালা দিতে বলা হয়েছে।
শাহজালাল (রহ.) মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান বলেন, ‘দরগাহর হিসাবে অস্বচ্ছতার কী আছে আমি বুঝি না। এখানে ফিক্সড ইনকাম নাই। এখানে অনেক মানুষ আসে। যে যাই দিয়ে থাকে অন্যখানেও চলে যাচ্ছে। এজন্য তো আমরা দায়ী নই। এখানে মাদ্রাসা, মসজিদ, দরগাহ তিনটি ভাগে মানুষজন দান খয়রাত করে যাচ্ছে। আমরা জোর করে নিচ্ছি না। মানত করে গবাদিপশুও দিয়ে যাচ্ছে আমরা কিছু বিক্রি করি। কিছু তারা শিরনি করে। আমাদেরকে দান করে। এখানে অস্বচ্ছতার কী আছে?’
মোতোয়াল্লি আরও বলেন, ‘ব্রিটিশ সরকারও চেয়েছিল দরগাহ নিয়ে নিতে। কিন্তু পারে নি। সবই আল্লাহর হুকুম।’
আপনার মন্তব্য