আজহার উদ্দিন শিমুল

১২ এপ্রিল, ২০১৬ ১০:৪৬

বানিয়াচংয়ে বিদ্রোহীদের নিয়ে বিপাকে আওয়ামী লীগ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলাধীন ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন কড়া নাড়ছে ভোটারদের দরজায়। প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এবারের নির্বাচনে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, কারণ দলীয় কোন্দলের কারণে ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অন্য দলের প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিলেটটুডের অনুসন্ধানে এসব চিত্র ফুটে এসেছে।

বানিয়াচং সদর ১নং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য মো. মিজানুর রহমান খানকে একক প্রার্থী দেওয়ার পরও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলা
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা খায়রুল বাশার সোহেল।

বানিয়াচং সদর ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরফান উদ্দিনকে দলীয় প্রতীক নৌকা দিয়ে নির্বাচন করার জন্য মনোনীত করেছে দলটি। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়ে গেলেন সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী যিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মো. লুৎফুর রহমানকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সেক্রেটারি মঞ্জু কুমার দাশ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নে দলীয় প্রতীক পেয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আলী। তার বিদ্রোহী হিসেবে রয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন।

৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন হাবিবুর রহমান। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে সহ-সভাপতি ইয়াওর মিয়া। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন ।

৯নং পুকড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এড.আলাউদ্দিন তালুকদার এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন যুবলীগ নেতা নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ মিয়া। এই ইউনিয়নে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আ’লীগের আরেক নেতা আব্দুর রউফ মিয়া।

১২নং সুজাতপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন মো. আব্দুল কদ্দুছ। আর এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউপি আওয়ামী লীগ নেতা এনাম খান চৌধুরী ফরিদ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

১৩নং মন্দরি ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ সামছুল হক দলীয় প্রতীক নৌকা পেয়েছেন। তার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন।

১৪নং মুরাদপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পাশা নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আফরাজুল চৌধুরী।

বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা নিয়ে এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, আমরা অচিরেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত