২১ এপ্রিল, ২০১৬ ১৬:১৭
এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কানাইঘাটে ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬০ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৩৯৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই উপজেলায় প্রধান দুই দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির বলয়ের বাইরে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী মাঠে চমক দেখাতে পারেন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
সীমান্তবর্তী এই জনপদ নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে উপজেলার গ্রামগঞ্জের মানুষজন প্রার্থী নির্বাচনে নানান হিসেব নিকেশ করছেন।
চেয়ারম্যান পদে ১নং লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নে নির্বাচনী মাঠে আছেন আলমাছ উদ্দিন (আ’লীগ), শমসের আলম (বিএনপি), বর্তমান চেয়ারম্যান ডা: ফয়াজ উদ্দিন (স্বতন্ত্র), আলাউদ্দিন মড়াই (আ’লীগ) বিদ্রোহী), মোঃ: মাসুক আহমদ (স্বতন্ত্র), ফখর উদ্দিন চৌধুরী (বিএনপি বিদ্রোহী), আব্দুর রব (বিএনপি বিদ্রোহী) লড়াইয়ে আছেন । এই ইউনিয়নে একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে বর্তমান চেয়ারম্যান ডা: ফয়াজ উদ্দিন (স্বতন্ত্র) কিছুটা এগিয়ে আছেন। তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারেন বিএনপি বিদ্রোহী ফখর উদ্দিন। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুক আহমেদও লড়াই তৈরি করতে পারেন।
২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নে লড়বেন মুক্তিযোদ্ধা মি. জেমস লিও ফারগুশন নানকা (আ’লীগ), বর্তমান চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ চৌধুরী (আ’লীগ বিদ্রোহী),কামাল আহমদ(বিএনপি), আমিনুল ইসলাম আমিন (বিএনপি বিদ্রোহী), এডভোকেট আব্দুর রহীম(জাপা),আব্দুস সামাদ আজাদ উজ্জ্বল(স্বতন্ত্র), মাওলানা হেলাল উদ্দিন(জমিয়ত) লড়াই করছেন । এই ইউনিয়নে নৌকা ও লাঙল প্রতীকের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দিতায় রাখছেন ভোটাররা।
৩নং দিঘীরপার পূর্ব ইউনিয়নে মোট প্রার্থী ৪ জন। প্রার্থীরা হলেন আলী হোসেন কাজল(আ’লীগ), বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী(আ’লীগ বিদ্রোহী), আলতাফ উদ্দিন (বিএনপি), আব্দুল হাই (স্বতন্ত্র) ।এই ইউপিতে প্রধান দুই দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
৪নং সাতবাক ইউনিয়নে মস্তাক আহমদ পলাশ (আ’লীগ) এর প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন, এই ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় কোন প্রার্থী নেই। এছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যান মাস্টার ফয়জুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), আব্দুল মান্নান (স্বতন্ত্র), জয়নাল আবেদীন (জাপা), আলী আহমদ (আ’লীগ বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। তবে আলীগ প্রার্থী মস্তাক আহমদ পলাশের সাথে বর্তমান চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলামেরই লড়াই হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
৫নং বড়চতুল ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন ৬ জন। এরমধ্যে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মুবশ্বির আলী (আ’লীগ), আব্দুল মালিক চৌধুরী (বিএনপি), হামিদুল হক (বিএনপি বিদ্রোহী), কিউএম ফররুখ আহমদ ফারুক (জাপা), মাওলানা ফখরুল ইসলাম(জমিয়ত), মাওলানা আবুল হোসেন(স্বতন্ত্র)। এই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা আবুল হোসেনের ত্রিমুখী লড়াই হবে।
৬নং সদর ইউনিয়নে মোট প্রার্থী তিনজন। হোসেইন আহমদ (আ’লীগ), মামুন রশিদ মামুন (বিএনপি), বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম (স্বতন্ত্র)- এই তিন প্রার্থীই লড়াইয়ে থাকবেন বলে জানা গেছে।
৭নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নে মাসুদ আহমদ (আ’লীগ), বর্তমান চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন(বিএনপি), মাস্টার লোকমান উদ্দিন (স্বতন্ত্র), মাওলানা আব্দুল কাদির(জমিয়ত), আব্দুল মুছব্বির (স্বতন্ত্র) এই পাঁচজন মাঠে থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রধান দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যেই লড়াই হবে।
৮নং ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নে মোট ৮ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে আছেন। এরমধ্যে বড় দুই দলেরই রয়েছে একাধীক প্রার্থী। প্রার্থী হিসেবে আছেন নুরুল হক (আ’লীগ), আবু বক্কর সিদ্দিকী (বিএনপি), জালাল আহমদ (আ’লীগ বিদ্রোহী), হারুনুর রশিদ(স্বতন্ত্র), আব্বাস উদ্দিন(বিএনপি বিদ্রোহী), মাওলানা খলিলুর রহমান(জমিয়ত), সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম(স্বতন্ত্র), মিসবাহ উদ্দিন(স্বতন্ত্র), হুসনী মোবারক(স্বতন্ত্র)। তবে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর সাথে লড়াই হবে বিএনপি বিদ্রোহী আব্বাস উদ্দিনের। লড়াইয়ের মাঠে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুনুর রশিদও।
৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারমধ্যে আছেন জহিরুল ইসলাম তুহেল(আ’লীগ), বর্তমান চেয়ারম্যান ডাক্তার মনিক মিয়া (বিএনপি), আব্দুল আজিজ আশিক (আ’লীগ বিদ্রোহী), হেলাল আহমদ চৌধুরী(আ’লীগ বিদ্রোহী), তারেক হাসান(আ’লীগ বিদ্রোহী), শায়েস্তা মিয়া(আ’লীগ বিদ্রোহী), মখলিছ আহমদ(জাপা), মাওলানা সামছুল ইসলাম(জমিয়ত), বাহার উদ্দিন (খেলাফত মজলিস), ইসমাইল আলী চৌধুরী (জাসদ), রাধিকা রঞ্জন নাথ (স্বতন্ত্র), ফখরুল ইসলাম(স্বতন্ত্র), একেএম বোরহান উদ্দিন(স্বতন্ত্র)।
জানা গেছে, এই ইউনিয়নে লড়াইয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ আশিক ও আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী শায়েস্তা মিয়া।
আপনার মন্তব্য