২১ এপ্রিল, ২০১৬ ২৩:৪৬
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি। ঘরের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন এক বৃদ্ধা। আহত হয়েছেন অন্তত ১০/১৫ জন। নিহতের পরিবারে এখন শুধু কান্না আর আহাজারি। ঘর বাড়ি হারিয়ে হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ঘর হারা মানুষের জন্য করা হয়েছে তাবুর ব্যবস্থা ও দেয়া হয়েছে তাৎক্ষনিক আর্থিক সহায়তা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ও দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের উপর দিয়ে তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত ৩শ ঘরবাড়ি। ঘরের নিচে চাপা পড়ে চরমহল্লা ইউনিয়নের টেটিয়ারচর গ্রামের আনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন। নিহতের পরিবারে এখন কান্না আর আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হচ্ছে।
এদিকে সরেজমিন গিয়ে দেখাযায়, ঘর বাড়ি হারিয়ে হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে আসবাবপত্র। গাছে গাছে ঝুলে আছে চালের টিন। মানুষের পাশাপাশি ক্ষতি হয়েছে ফসল ও গবাদি পশুর। বিস্তীর্ণ হাওরে ছড়িয়ে ছিটিয় পড়ে আছে বই, খাতা, কাপড় সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। ছাতক সুনামগঞ্জ সড়কে ভেঙ্গে পড়েছে অসংখ্য গাছ বন্ধ হয়ে যায় এ সড়ক। শুক্রবার সকাল থেকে ছাতক ও সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ টিম এসব গাছ সরিয়ে বিকেল নাগাদ সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করে।
এদিকে উপজেলার টেটিয়ারচর, ছুনারুচর, চরমাধব, খরিদিরচর, হাদনআলী, পোরাহাটি সহ অন্তত ১৫টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরমহল্লাহ ইউনিয়নের টেটিয়ারচর ও হাদনআলী গ্রাম।
স্থানীয় সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন কওে নিহতের পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, মানুষে পাশাপাশি গবাদি পশু সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া
টেটিয়ার চর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত গৃহিনি হাফসা বেগম বলেন, হঠাৎ এমন ঝড়ে পরিবারের সবাই কমবেশি আহত হয়েছি। শিশুরা ভয়ে এখনো নাওয়া খাওয়া ছেরে দিয়েছে। ঘরবাড়ি সব শেষ এখন সরকার যদি একটু সহায়তা করে তাহলে পরিবার নিয়ে চলতে পারবো।
এ সময় উপস্থিত সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘর বাড়ি হারানোদের জন্য করা হয়েছে তাবুর ব্যবস্থা ও দেয়া হয়েছে তাৎক্ষনিক আর্থিক সহায়তা। উপজেলা প্রশাসনে মাধ্যমে তালিকা করে সবাইকে সহায়তা দেয়ার আশ্বাশদেন তিনি। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছাবে এমনটাই আশা স্থানীয়দের।
আপনার মন্তব্য