১৯ মে, ২০১৬ ১০:০৯
পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল, গোয়ালবাড়ী ও ফুলতলা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। আড়াই শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জুড়ীতে পাহাড়ি ঢলে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে সাগরনাল, গোয়ালবাড়ী ও ফুলতলা ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এ ছাড়া সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের মনতৈল ও গুচ্ছগ্রাম এলাকায় টিলা ধসে ৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় শিশুসহ আহত হয়েছেন ছয়জন।
এলাকাবাসী জানান, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জুড়ী নদী, রাঘনাছড়া ও ধলাইছড়ার প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এতে সাগরনাল ইউনিয়নের উত্তর সাগরনাল, উত্তর বড়ডহর, দক্ষিণ বড়ডহর, বরইতলি, কাশিনগর, হোসেনাবাদ, কাপনা পাহাড় চা-বাগান ও জাঙ্গালিয়া, গোয়ালবাড়ীর মন্ত্রীগাঁও, পূর্ব শিলুয়া, যোগীমোড়া ও পশ্চিম শিলুয়া এবং ফুলতলার কোনাগাঁও, ফুলতলা বস্তি, বটুলি ও ধলাইর হাওর এলাকা প্লাবিত হয়।
সাগরনালের বরইতলি গ্রামে জুড়ী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থানের ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। দক্ষিণ সাগরনাল গ্রামের বাসিন্দা তানজির আহমদ বলেন, ঢলের পানিতে তাঁর পোলট্রি খামার তলিয়ে যাওয়ায় চার হাজার মুরগির বাচ্চা মরে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার রাতে জায়ফরনগর ইউনিয়নের মনতৈল ও গুচ্ছগ্রামে টিলা ধসে কয়েকটি কাঁচা ঘর ভেঙে পড়ে। এতে মনতৈল গ্রামের আক্কেল আলী (৫৫), তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০), ছেলে আল ইসলাম (১২) ও মেয়ে সাহিদা বেগম (১০), সিরাজ মিয়া (৬০), তাঁর ছেলে মন্নান মিয়া (১২) আহত হয়। জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাছুম রেজা বলেন, গুচ্ছগ্রাম ও মনতৈল গ্রামে টিলা ধসে ৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাগরনাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তাঁর এলাকার কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী। বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। অন্তত শতাধিক খামারের মাছ ভেসে গেছে। ফুলতলা ইউপির চেয়ারম্যান ফয়াজ আলী বলেন, ঢলের কারণে তাঁর এলাকার দুই হাজার মানুষ পানিবন্দী। ১১টি কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
গোয়ালবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁর এলাকার বিভিন্ন গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত এক হাজার মানুষ পানিবন্দী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী চাওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য