কিবরিয়া চৌধুরী, নবীগঞ্জ

০৮ নভেম্বর, ২০১৬ ১৫:৫৮

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে খানা-খন্দ আর পুলিশের চাঁদাবাজি, দুর্ভোগে চালক ও যাত্রীরা

খানা খন্দে ভরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রী দুর্ভোগ এখন চরমে। অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ পরিবহণ চালক-শ্রমিকরা।

চলতি সপ্তাহে ৩ দিনের টানা বৃষ্টিতে মহা সড়কের কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত হয়ে সেসব জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। যে কোন সময় দূর্ঘটনার আশংকা নিয়ে হাজার হাজার যাত্রী সাধারণকে চলাচল করতে হচ্ছে মহা সড়কে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহা সড়কের নবীগঞ্জের আউশকান্দি ইউনিয়নের সঈদপুর বাজার থেকে শুরু করে পানিউমদা বাজার পর্যন্ত স্থানে স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে গর্তগুলোতে। গর্তের মাঝে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় চালকরা বুঝতে পারছেন না কোথায় রয়েছে গর্ত। ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।

প্রায় মাস দেড়েক পুর্বে মেরামত করা হলেও এখন বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এ অংশটি। এতে যাত্রীবাহী বাসসহ দেশী-বিদেশী পর্যটকবাহী গাড়ি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনিয়মের কারনে ঢাকা-সিলেট মহা সড়ক এখন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে বলে দাবী করছেন পথচারী ও সাধারন মানুষ। কেউ কেউ বলছেন বড় বড় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ক্ষমতার অধিক মালামাল বহন করে চলাচলের জন্যই সড়কের এই বেহাল অবস্থা। তার ওপর পথে পথে হাইওয়ে পুলিশের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি তো আছেই। সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্তা খারাপ থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে।

এ সড়কে চলাচলকারী মিতালী পরিবহনের চালক বলেন, মহা সড়কটির পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। গাড়ি চালানোর সময় ঝাঁকুনিতে শরীরের কিছু থাকে না। ফলে শুনতে হয় যাত্রীদের গালাগাল! তার মাঝে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি। সব মিলিয়ে মহা সড়কে বিপদে আছি।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মাহমুদ জানান, প্রতিনিয়ত হাইওয়ে পুলিশ মহা সড়কের টোল প্লাজার নিকটে গাড়ি দাঁড় করিয়ে হাতের মুঠোতে করে চাঁদা নিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলে। একে একে বিভিন্ন গাড়ি ধরা হয় এবং বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায় করা হয়।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে এক ট্রাক চালক জানান, পুলিশি চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেন, রাস্তাঘাট ঠিক করে দেন, তাহলে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত