নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ নভেম্বর, ২০১৬ ২০:১৭

পেছালো রাগীব আলীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলার শুনানি

শিল্পপতি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে তারাপুর চা-বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) সিলেটের মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে এ মামলার আসামি তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত অব্যাহতির আবেদন করলে  ভারপ্রাপ্ত বিচারক বেগম উম্মে সরাবন তহুরা অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) শুনানির দিন ধার্য করেন।

একই ঘটনায় একই আদালতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় আজ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান জানান, মোট ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আবদুল হাইসহ ছয়জন আসামি। এর মধ্যে তারাপুর চা-বাগানের বৈধ সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্তও রয়েছেন। তাঁর পক্ষের আইনজীবী এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম আদালতে পংকজ কুমার গুপ্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করায় এবং মামলার নথি মহানগর জজ আদালতে তলবের কারণে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম বিল্লাহ ও মামলার পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তা (বর্তমানে সিআইডিতে কর্মরত) লক্ষ্মীপুরের পুলিশ পরিদর্শক আবু জাহের সরকার সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার বাদী এস এম আবদুল কাদের ১৩ নভেম্বর সাক্ষ্য দেবেন বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তারাপুর চা-বাগান পুনরুদ্ধারের রায় দেন। এ রায়ে ১৭টি নির্দেশনার মধ্যে এ মামলাটি পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর বিচারিক হাকিম আদালত এক আদেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশ দিলে ১০ জুলাই রাগীব আলীসহ ছয়জনকে আসামি করে পিবিআই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। ১০ আগস্ট দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে ওই দিনই তাঁরা পালিয়ে ভারতে চলে যান।

মামলার অপর চার আসামির মধ্যে রাগীব আলীর মেয়ে রোজিনা কাদির ও মেয়ের জামাই আবদুল কাদির পলাতক রয়েছেন। ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে তারাপুর চা-বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত সেজে বসা রাগীব আলীর আত্মীয় দেওয়ান মোস্তাক মজিদ  গত ১০ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত