নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ নভেম্বর, ২০১৬ ১৯:২২

সিলেটে খাসি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জিংয়াসেং উদযাপন

বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে খাসি সম্প্রদায়ের জিংয়াসেং অর্থাৎ খ্রীষ্টরাজা পর্ব পালিত হয়েছে। দুইদিনের এই আয়োজনে এবং সিলেট ধর্মপ্রদেশের বিশপ ভবন উদ্বোধন উপলক্ষ্যে দূর-দূরান্ত থেকে খাসি সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর আগমন ঘটে।

এ উপলক্ষ্যে রোববার সিলেট নগরীর উপকণ্ঠের পরগনা বাজারস্থ ধর্মপ্রদেশে বসবাসরত বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে এক আদিবাসীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ভাটিকানের রাষ্ট্রদূত আর্চ বিশপ জর্জ কোচেরি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহা ধর্মপ্রদেশের বিশপ থিওটোনিয়াস গমেজ সিএসসি. ঢাকা মহা ধর্মপ্রদেশের সহকারী বিশপ শরৎ গমেজ. সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং, বিশিষ্ট লেখক সঞ্জীব দ্রং, কারিতাস বাংলাদেশের সম্মানিত সহকারী নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন),সেবাস্টিয়ান রোজারিও, আহবায়ক ও  সিলেট ধর্ম প্রদেশের  ভিকার জেনারেল শ্রদ্ধেয় ফা: স্টেনিসলাউস গমেজ, শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন সিলেট ধর্মপ্রদেশের পরম বিশপ বিজয় এন ডি’ ক্রুশ ওএমআই।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমরা খ্রীষ্ট রাজার পর্ব উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে যীশুকে আমাদের মুক্তিদাতা ত্রাণকর্তা, হিসাবে গ্রহণ করিএবং একই সাথে তাঁরপ্রতি সম্মান, ভক্তি ও শ্রদ্ধাজানাই। খ্রীষ্ট হলেন আমাদেও অন্তরের রাজা। খ্রীষ্টের রাজত্ব জাগতিক রাজত্বেও মত নয়। যীশু হলেন ক্রুশবিদ্ধ রাজা। ক্রুশের মুত্যুও মধ্য দিয়েই তিনি জগতের পরিত্রাণ এনেছেন। ভালবাসার কারণেই মৃত্যুবরণ করে পাপ ও মৃত্যুও উপর জয়লাভ করে তিনি আমাদের সবার রাজা হয়েছেন। যারা তাকে বিশ্বাস করে, তাঁর শিক্ষা অনুসারে জীবন-যাপন কওে তারাই তাঁর রাজ্যেও প্রজাবৃন্দ।

খ্রীষ্ট রাজার পর্ব পোপ একাদশ পিউস ১৯২৫ সালে প্রবর্তন করেন। এই পর্বটির মধ্য দিয়ে প্রকাশ করা হয় খ্রীষ্টের রাজকীয়মর্যাদা যাসমস্ত সৃষ্টির উপর। খ্রীষ্টের মধ্য দিয়েই সমস্ত সৃষ্টি পূর্ণতা লাভ করেছে। খ্রীষ্ট হলেন ম-লীর মস্তক স্বরূপ, ঈশ্বর তাঁরই উপর ন্যস্ত করলেন সমস্ত জাতিরও সৃষ্টির প্রভুত্ব।

বক্তারা বলেন, খ্রীষ্টরাজারপর্ব (জিংগাসিং) খাসি ভক্ত জনগণের একটি আনন্দ উৎসব, প্রার্থনা ও ভক্তিপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান যেখানে অসংখ্য জনগণসমাবেশ ঘটে।

তাই খ্রীষ্ট রাজার পর্ব উৎসবের মধ্য দিয়ে যীশুকে আমাদেও রাজা, ত্রাণকর্তা ও মুক্তিদাতা বলে গ্রহণ করি, তাঁর শিক্ষা অনুসারে জীবনযাপন করি এবং তাঁর প্রেরণ কাজে আরো সক্রিয়ভাবেঅংশ গ্রহণ করি। খ্রীষ্ট রাজার পর্ব উৎসবের মধ্য দিয়েই যেন আমরা লাভ করি নতুন জীবন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত