নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ নভেম্বর, ২০১৬ ২০:২৮

উৎসবের আমেজে হঠাৎ ভাটা!

সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা স্থগিত

চারদিকে সাজ সাজ রব। উৎসবের আমেজ। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য। বর্ধিত সভা-কর্মী সভা- প্রচার মিছিল। নানা কর্মযজ্ঞ চলছিলো। এ সবই সিলেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে ঘিরে। তবে রোববার আচমকা স্থগিত ঘোষণা করা হয় জেলা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই জনসভা।

আচমকা এই স্থগিতের ঘোষণায় যেনো ভাটা পড়েছে উৎসবের আমেজে। ২৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটে আসছেন ঠিকই, তবে জনসভা না হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশাও দেখা দিয়েছে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘতি হওয়ার শঙ্কায় ২৩ নভেম্বর সিলেটের জনসভা স্থগিত করেন প্রধানমন্ত্রী। রোববার দুপুরে জনসভা স্থগিতের বিষয়টি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরআগে সকালে জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
 
২৩ নভেম্বর মূলত জালালাবাদ সেনানিবাসে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ নবগঠিত সদর দপ্তর ১১ পদাতিক ব্রিগেডের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সফর উপলক্ষ্যে বিকেলে আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভার আয়োজন করেছিলো জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ।

এই জনসভাকে ঘিরেই আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেখা দিয়েছিলো প্রাণচাঞ্চল্য। নগরজুড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন, প্লে কার্ড, বিলবোর্ড আর তোরণ নির্মান করেছেন নেতাকর্মীরা। জনসভাস্থল আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের চারপাশও ছেয়ে গেছে ব্যানা্র ফেস্টুনে। প্রধানমন্ত্রীর ছবির সাথে নিজের এবং নিজেদের স্থানীয় নেতাদের ছবি যুক্ত করে এইসব ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়েছিলেন স্থানীয় নেতারা।

এছাড়া আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিদিনই নগর ছাড়িয়ে প্রায় সকল উপজেলায় প্রচার মিছিল- সভা চলছিলো। বর্ধিত সভা-কর্মী সভায় এসে যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। এ সবই প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে সফল করার লক্ষ্যে। জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগম করার জন্যে।

জোরেসোরেই চলছিলো সভাস্থল আলীয়া মাদ্রাসা মাঠ প্রস্তুতির কাজ। রোববার দুপুরেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই মাঠ পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে বলেছেন, সিলেটের জনসভা থেকেই আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে।

তবে অর্থমন্ত্রীর মাঠ পরিদর্শনের কিছুক্ষণ পরই আসে জনসভা স্থগিতের ঘোষণা। ফলে ২৩ নভেম্বরের সিলেট সফরে সরকারী কর্মসূচীর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর কোনো কর্মসূচী থাকছে না। ফলে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে কিছুটা হতাশা।

গত কয়েকদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে নগরীতে একের পর এক মিছিল ও সমাবেশ ও অবিরাম মাইকিং চললেও রোববার দুপুরের পর এসব আর দেখা যায়নি।

এদিকে, কেবল দলীয় নেতাকর্মী নন, সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনার আশায় থাকা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

তবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী যে আইন প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ ছাড় দিতেও প্রস্তুত তা তাঁর এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে এতে নেতাকর্মীরা হতাশ নয়, বরং এমন নেত্রীর জন্য গর্বিত।

জনসভা না হলেও প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরে সফল করে তুলতে প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, জনসভা স্থগিত করার প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুর ১২ টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। জেলা পিরষদ মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা না হওয়ায় যেসব প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা ছিলো সেগুলোও স্থগিত করা হয়েছে।

উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলো হলো- লাক্কাতুড়া টি এস্টেটে সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ তলা নতুন একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন, সার পরীক্ষাগার ও গবেষণা কেন্দ্র, মৃত্তিকা গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজী বুরহান উদ্দিনের মাজার মসজিদ, সিলেট শাহী ঈদগাহ মিনার কমপ্লেক্স, কোম্পানীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও সিলেট সদর উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্প।

এছাড়া ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে আরও সাতটি প্রকল্পের। এগুলো হলো- সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ, নার্সিং ডরমেটরি ভবন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যারাক ও জেলা পুলিশ লাইনস অস্ত্রাগার নির্মাণ প্রকল্প।

প্রধানমন্ত্রীর আগের সফর সূচি সূত্রে জানা গেছে, আগামী বুধবার (২৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট এসে পৌঁছাবেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার এবং সাড়ে ১০টায় হযরত শাহপরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করবেন শেখ হাসিনা। এরপর সকাল ১১টায় জালালাবাদ সেনানিবাসে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ নবগঠিত সদর দপ্তর ১১ পদাতিক ব্রিগেডের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত