নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ নভেম্বর, ২০১৬ ২০:৫১

মেয়েটির কান্না শোনে উদ্ধারে এগিয়ে গেলেন জেলা প্রশাসক

বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় অটোরিকশার নিচে চাপা পড়ে কাতরাচ্ছিলেন কলেজছাত্রী। সাহায্যের জন্য আর্তি জানাচ্ছিলেন। আশপাশে তেমন লোকজন না থাকায় এগিয়ে আসছিলো না কেউ। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী গাড়িও থামছিলো না ছাত্রীর কান্না শোনে।

এমন সময় দুর্ঘটনাস্থল দিয়ে গাড়ি করে যাচ্ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন। মেয়েটির চিৎকার শুনে গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে গেলেন তিনি। নির্ধারিত কর্মসূচিতে না গিয়ে আগে মেয়েটিকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন জেলা প্রসাশক।

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কের দক্ষিণ সুরমার হাজীগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়,  সিলেট এম সি কলেজের বিএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী প্রিয়াংকা দাস সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রিয়াংকা বালাগঞ্জ উপজেলার কায়স্থঘাট চক গ্রামের গোবিন্দ দাসের মেয়ে।

চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ গাড়িটির সামনের চাকা খুলে গেলে দুর্ঘটনায় পড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি। এ সময় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে চিৎকার করতে থাকেন প্রিয়াংকা। ঘটনাস্থলে কোনো লোকজন ছিল না। তবে সড়ক দিয়ে অনেক যানবাহন চলাচল করলেও কেউ থামেনি।

সে সময় এই সড়ক দিয়ে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় যাচ্ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন। উল্টে পড়া গাড়ি দেখে সেখানে থামেন তিনি। তারপর শুনতে পান নারী কণ্ঠের আর্তি। এরপর গাড়ি থেকে নেমে দুর্ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক। আহত কলেজছাত্রীটিকে উদ্ধার করে নিজের গাড়িতে করে চিকিৎসার জন্য ফেঞ্চুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তিনি।

পরে জেলা প্রশাসক নিজেই মেয়েটির বাবার কাছে ফোন করে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান।

আহত প্রিয়াংকা দাস বলেন,‘গাড়ির চাপায় প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল। হঠাৎ দেখি কয়েকজন মিলে আমাকে গাড়ির নিচ থেকে উদ্ধার করছেন। আমার নাম, ঠিকানা জিজ্ঞেস করার পর আমাকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান।  পরে জানতে পারি উনি সিলেটের ডিসি স্যার।’

শুক্রবার এ নিয়ে জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘মেয়েটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পেরেছি, সেটা আমার ভালো লাগছে। আমি মনে করেছি এটা আমার দায়িত্ব। তার বাবাকে টেলিফোন করে হাসপাতালে আসতে বলে তারপর আমি একটু স্বস্তি পেলাম।’

সবাইকে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবারই বাড়িতে যাওয়ার পর মেয়েটি ও তার বাবা টেলিফোন করে কথা বলেছে আমার সঙ্গে। এখন সে ভালো আছে।’

আহত প্রিয়াংকার বাবা গোবিন্দ দাস জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষের বিপদে কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়, তা দেখিয়ে দিলেন আমাদের সিলেটের জেলা প্রশাসক।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত