১৭ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:৫৩
সিলেটে কিছুতেই দখলমুক্ত হচ্ছে না ফুটপাত। কয়েকদফা ফুটপাত থেকে ভাসমান ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হলেও আবার তারা দখল করে বসেছে নগরীর ফুটপাত। কয়েকদফা হকারদের পুনর্বাসনে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর উদ্যোগ।
অতীতে ফুটপাত উচ্ছেদ করতে খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের নির্দেশও কাজে লাগেনি। ফুটপাত দখলমুক্ত নিয়ে অতীতে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আন্দোলনও হয়েছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযানে নামে। কিন্তু একদিকে অভিযান অপরদিকে আবার দখল হয়ে যায় ফুটপাত।
সম্প্রতি আবার ফুটপাত দখলে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। শুধু ফুটপাত নয়, রাস্তা দখল করেও পসরা সাজিয়েছে হকাররা। বিশেষ করে শীত পড়ার সাথে সাথে সবজি বিক্রেতারা নতুন করে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা করে আসছে। এখন ফুটপাতে পা ফেলা দায়। রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসায় ব্যস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর হকাররা। তাদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।
খোদ সিটি কর্পোরেশনের সামনে, জেলা পরিষদের সামনে, জেলা প্রশাসন ও হেড পোষ্ট অফিসের সামনের রাস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ অফিসের সামনে ও রাস্তা বাদ যায়নি হকারদের কবল থেকে।
নগরীর প্রধান ব্যস্ততম এলাকা বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা ও রিকাবীবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাত তো বেদখলই হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে।
এমনকি সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি কিন্ডার গার্টেন, দূর্গাকুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজা জিসি হাইস্কুলের সামনের ফুটপাতও বাদ যায়নি। ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীসহ শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। শুধু ব্যাঘাত নয়, যানজটের প্রধান কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকাল হলেই আবার আরেক ধরণের ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে ফুটপাত ও রাস্তাগুলো। ভাসমান চা, চটপটি, ডিম, পিঠা, সবজি, ফলমূল বিক্রেতাদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়।
মধুবন মার্কেটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, হকার ঠেলে মার্কেটে প্রবেশ করতে হয়। প্রত্যেকটি মার্কেটের পাশের ফুটপাত উচ্ছেদে ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়ে আসলেও কাজ হয়না। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান করেই ‘দায়িত্ব’ পালন করে পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন।
সূত্রমতে, অতীতে পুরোপুরি ফুটপাত উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকার ঘোষণা দিলেও কাজের কাজ কিছুই করতে পারেনি সিসিক ও পুলিশ প্রশাসন।
গত ঈদের পর একাধিকবার অভিযান হয়েছে। একদিন অভিযান হলে পরদিন আবার বসে পড়েন হকাররা। ফলে স্থায়ী উচ্ছেদের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আগের চেহারায় ফিরে আসে নগরীর ফুটপাতগুলো।
এ প্রসঙ্গে, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান, মাঝেমধ্যে অভিযান করলেও আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়। সমন্বিত উদ্যোগ নিলে হয়তো স্থায়ী সমস্যা সমাধান সম্ভব। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আমরা চেষ্টা করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক কারণে উচ্ছেদ অভিযান সফল হয় না। ফুটপাত থেকে যারা টাকা তুলে অভিযান শুরু করলে তারাই দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। তিনি জানান, ফুটপাতের মালিক সিসিক। তারা চাইলে পুলিশ সহযোগিতা করবে। হকারদের শেল্টার দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) নিকোলিন চাকমা বলেন, হকার উচ্ছেদে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। কেবল পুলিশের পক্ষে একার ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব নয়।
আপনার মন্তব্য