১৮ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:৪৭
জনবল সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা। চিকিৎসকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকায় দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এই উপজেলার বাসিন্দাদের।
জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৪ জন। শূন্য রয়েছে ১৫চিকিৎসকের পদ। এছাড়া ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরও ২০ পদ খালি রয়েছে।
চিকিৎসক, ল্যাবটেকনিশিয়ানসহ জরুরী পদগুলোর প্রায় অর্ধেক দীর্ঘ দিন যাবত শূণ্য অবস্থায় আছে।
জানা যায়, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকরা আসলেও বেশিদিন থাকতে চান না। ফলে কিছুদিন পরই শূণ্য হয়ে পড়ে। ফলে উপজেলার সচ্ছল লোকেরা চিকিৎসার জন্য সিলেটে আসলেও বিপাকে পড়তে হয় অসচ্ছলদের।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭৯ টি পদ রয়েছে। তার মধ্যে অধিকাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। শূণ্য থাকা পদগুলো হলো- চিকিৎসক ২৯ জনের নেই ১৫ জন। ল্যাবট্যাকশিয়ান ৩টির পদই খালি রয়েছে। এক্সরে টেকনিশিয়ানও নেই। সেবিকা ১০ টি পদের মধ্যে খালি রয়েছে ৭টি, আছেন মাত্র ৩জন। ফার্মাসিস্ট ৭ জনের মধ্যে আছেন মাত্র ১ জন। খালি রয়েছে এই পদে ৬ জন। চতুর্থ শ্রেণীর ২৭ টির মধ্যে পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ৭ জন। ফাঁকা রয়েছে ২০ টি পদ। এরমধ্যে আয়া, সুইপার,ওয়ার্ড বয় ও এমএলএসএস পদ রয়েছে।
হাসপাতালের এক্সরে মিশিন জনবল সংকটের কারণে ব্যাবহার না করতে পারায় বর্তমানে অকেজো হয়ে পরেছে। এমনকি জরুরী পরিক্ষা নিরীক্ষাও করাতে পারছেন না রোগীরা।
যে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা রয়েছেন তারাও নিয়মিত হাসপাতালে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ রামিম, জগন্নাথপুর সদর এলাকার বাসিন্দা নুর মিয়া রোগী সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোরডটকমকে বলেন- আমরা উপজেলা হাসপাতালে এসে ডাক্তার পাই না। তাই আমাদের এলাকার যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো তারা হাসপাতাল না এসে সিলেট চলে যায়। তবে গরিব লোকদের চিকিৎসার সমস্যা হচ্ছে। গরিব লোকদের মধ্যে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন তারা নূন্যতম সেবাও পাননা।
জগন্নাপথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামছ উদ্দিন সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন- আমাদের সমস্যার কথাগুলো দফায় দফায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়েছে। সকলের সহযোগীতা নিয়ে সীমিত লোকবল নিয়েই মানুষের সেবা দিতে চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি হাসপাতালে নতুন এ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের কাছে আমাদের হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যাদির কথা তুলে ধরি। তার প্রেক্ষিতে তিনি একটি ডিও লেটার প্রদান করেন। আশা করছি অতি তাড়াতাড়ি জনবল সংকট মুক্ত হতে পারব।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন- নার্সের সংকট আমরা ইতোমধ্যে কাটিয়ে উঠেছি। কিছুদিনের মধ্যে অন্য জনবলও পেয়ে যাব। সংকটময় সময়ে সিমীত জনবল নিয়েই আমরা আন্তরিকভাবে সেবা দিচ্ছি।
আপনার মন্তব্য