১৮ জানুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৩
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কেরামত নগর ও কুমারসাইল চা-বাগানের হিসাবরক্ষক (একাউন্টেন্ট) মারুফ আহমদের (৪৫) বিরুদ্ধে বাগানের এক কোটি এক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মারুফ আহমদ পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমান বুধবার (১৮ জানুয়ারি) অভিযুক্ত মারুফ আহমদকে প্রধান আসামী ও আরো দুই জনের নাম উল্লেখ করে বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-০৯। অভিযুক্ত মারুফ আহমদ জেলার কুলাউড়া উপজেলার রাজনগর (রবিরবাজার) গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল হাই এর ছেলে।
থানায় দায়ের করা মামলা ও চা বাগান সূত্রে জানা গেছে, মারুফ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে বড়লেখা উপজেলার কেরামত নগর ও কুমারসাইল চা-বাগানের একাউন্টেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিল। দু’টি চা-বাগানের ৫টি ব্যাংকের একাউন্ট ছাড়াও বাগানের জমির দলিলপত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র তার দায়িত্বে ছিল। গত (১২ জানুয়ারি) মঙ্গলবার থেকে বাগান কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে মারুফ আহমদ পালিয়ে যান। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বাগান কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে হঠাৎ করে মারুফের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গত ১৬ জানুয়ারি বড়লেখা থানায় জিডি করেন জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর। পরদিন জেনারেল ম্যানেজার ৫টি ব্যাংক একাউন্টের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করেন। স্টেটমেন্ট সংগ্রহের পর বাগানের নিজস্ব ক্যাশ বইয়ের সাথে মেলাতেই টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি ধরা পড়ে।
এছাড়া টাকা আত্মসাতের বিষয় ও বাগানের আরও প্রায় ২০/২৫ লাখ টাকা গড়মিল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গত (১৮ জানুয়ারি) বুধবার চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমান মারুফ আহমদকে প্রধান আসামী ও আরো দুইজনের নাম উল্লেখ করে বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করেন।
চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমানের জানান, নিখোঁজের পর মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) আসামী মারুফ আহমদের বাড়িতে খোঁজ করতে গেলে মামলার ২ ও ৩ নং আসামী তার সাথে অসদাচরণসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। মিজানুর রহমানের অভিযোগ, মারুফ দুইটি ব্যাংকের কর্মচারীদের সহযোগিতায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এক কোটি টাকা এক লাখ টাকা আত্মসাৎ করে।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সহিদুর রহমান টাকা আত্মসাতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মারুফকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
আপনার মন্তব্য