১৯ জানুয়ারি, ২০১৭ ২১:১৩
দিন তারিখ এখনো ঠিক হয়নি, তবু বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়ে গেছে আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও শুরু করেছেন দৌড়ঝাপ। বিশেষত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা তদবির শুরু করে দিয়েছেন।
প্রায় হাফ ডজন প্রার্থী নৌকার কান্ডারী হতে চেষ্টা তদবীর চালালেও মূল আলোচনা চলছে ২-৩জনকে ঘিরে। যদিও ‘রাজনীতির দাবা খেলায়’ শেষ পর্যন্ত আলোচনার বাইরে থাকা কেউ মনোনয়ন পেলে আশ্চর্য্য হওয়ার কিছু থাকবে না। দেশে-বিদেশে থাকা আগ্রহী প্রার্থীরা তাই নানাভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন। কেউ আবার বিদেশবিভূই ছেড়ে মাঠ গোছাতে এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। কৌশলী গণসংযোগও চালাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিয়ানীবাজার পৌরসভা সংক্রান্ত আিদালতে চলমান একটি মামলা নিস্পত্তি হয়। এতে দীর্ঘদিন পর এই পৌরসভার নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের জানান দিতে শুরু করেন।
বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগে দলের প্রার্থীতা নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়। নির্বাচনী মনোনয়নের দৌড়ে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাছিব মনিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জাকির হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুকুর, সহ-সভাপতি খছরুল হক, যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল কুদ্দুছ টিটু ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব।
নিজেদের মনোনয়ন প্রসঙ্গে আব্দুল হাছিব মনিয়া জানান, আমি দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবো। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা আমাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। তাছাড়া আমি সকল দৈব-দূর্বিপাকে কর্মীদের পাশে ছিলাম।
আব্দুস শুকুর বলেন, দল চাইলে নির্বাচন করবো। আমি বরাবরই উন্নয়ন এবং প্রগতীশীলতার চর্চা করি। এ ধারাবাহিকতায় দলীয় নেতাকর্মীরা আমাকে বেছে নেবে।
একটি সূত্র জানায়, গত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতার জন্য যেভাবে আভ্যন্তরীণ ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে, ঠিক একইপন্থায় আসন্ন পৌর নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে একাট্টা হবেন সম্ভাব্য অপর প্রার্থীরা। মো: জাকির হোসেন, খছরুল হক, আব্দুল কুদ্দুছ টিটু ও আবুল কাশেম পল্লব-তারা সবাই চান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রার্থী বাছাই করতে হবে। দলে গণতন্ত্র চর্চার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা ধরে রাখতে হবে বলে জানান জাকির হোসেন।
কোথাও থেকে কেউ কোন প্রার্থীকে চাপিয়ে দিলে মেনে নেয়া হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন খছরুল হক। এককথায় প্রার্থীদের বেশীরভাগ চান-গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রার্থী বাছাই।
সূত্রমতে, বিয়ানীবাজার পৌরনির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীতার বিষয় নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবাই উদ্বিগ্ন। কারণ প্রতিবেশী গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ শিক্ষামন্ত্রীর অতি ঘনিষ্ট মিছবাহ উদ্দিনের নাম ঘোষণা করে। পরে কেন্দ্র থেকে জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি পরাজিত হন। পাপলু শিক্ষামন্ত্রীর বিরোধী বলয়ের লোক হিসেবে পরিচিত। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল জব্বার চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান বলেন, কেন্দ্র থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসবে সেভাবে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এখানে কে নৌকার প্রার্থী হবেন, তা এখনই বলা মুশকিল।
আপনার মন্তব্য