নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০১:০৭

আজ কী মুক্তির বার্তা আসবে ভূট্টোর?

ইকবাল হোসেন বকুল ও রিপন আহমদ ভূট্টো

অপরাধ করেছেন একজন। অপরাধের দায়ে তাঁর শাস্তিও হয়েছে। অথচ সেই শাস্তি ভোগ করছেন অন্য একজন। এরকম একটি কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছিলো সিনেমা 'আয়নাবাজি।' যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে দর্শকনন্দিত সিনেমায় পরিণত হয়েছে।

সিনেমার এরকম কাহিনীই বাস্তবে ঘটেছে সিলেটে। হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামী বদলে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন আরো এক ব্যক্তি। তাঁর নাম রিপন আহমদ ভূট্টো।

সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা গণমাধ্যমে ওঠে আসলে গঠিত হয় বিচারিক বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। সেই কমিটি প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে আজ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন সিলেট জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারি। শনিবার তিনি নিজেই এমনটি জানিয়েছেন।

আজ জেলা ও দায়রা জজ কি ব্যবস্থা নেন সেদিকে নজর থাকবে সকলের। সংশ্লিস্টদের ধারণা বিনাদোষে জেল খাটা ভূট্টোর মুক্তির ব্যাপারে কোনো বার্তা দিতে পারেন বিচারক। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এই ঘটনার জন্য দায়ীদেরর বিরুদ্ধে।

শনিবার এমন ইঙ্গীতই দিয়েছেন মনির আহমদ পাটোয়ারি। সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের দায়ী করা হয়েছে তাদের ছাড়া পাওয়ার কোন সুযোগ নেই তবে কোন নিরপরাধী যাতে সাজা না পায় সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে।

জানা যায়, ২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরী থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন আলী আকবর সুমন (২৪)। পরদিন মোগলগাঁও ইউনিয়নের হাউসা গ্রামের পাশে ঝিলকার হাওরে কচুরিপানার নিচে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় নিহতের ছোট ভাই আলী আহসান সুহেল বাদী হয়ে মামলা করেন। শুনানি শেষে ২০১২ সালের ২০ জুন আলোচিত ওই মামলার রায় ঘোষণা করেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক দিলীপ কুমার দেবনাথ। মামলার চার্জশিটভুক্ত ৯ আসামির মধ্যে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন আদালত।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন হাউসা গ্রামের মৃত মছকন্দর আলীর ছেলে দরাছ মিয়া ওরফে গয়াছ ও তার স্ত্রী রুজিনা বেগম এবং একই গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মো. ইকবাল হোসেন বকুল। সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিই পলাতক ছিলেন।

২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর রিপন আহমদ ভূট্টো আদালতে হাজির হয়ে নিজেকে ইকবাল হোসেন বকুল দাবি করেন। আদালতের নির্দেশে এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। তবে আত্মসমর্পণের এক বছর ২ মাস পর বেরিয়ে আসে মূল সত্য। যে বকুল কারাগারে রয়েছেন, তিনি আসল বকুল নন। তার আসল পরিচয় ভুট্টো। আর মূল আসামী ইকবাল হোসেন বকুল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন।

সাজাভোগের ১৪ মাস পর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হান্নানকে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমেদ পাটোয়ারী। গত মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি ।

প্রতিবেদন হাতে পেয়ে শনিবার কারাগার পরিদর্শন করলেন জেলা ও দায়রা জজ। তার সাথে ছিলেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আব্দুল হান্নান।

শনিবার কারা ফটকে জেলা ও দায়রা জজ বলেন, তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ভুট্টোর বিষয়ে রোববার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এই ঘটনার সাথে যে বা যারা জড়িত ছিলেন তারা কেউ রক্ষা পাবেন না। আদালত চায় না কোন নিরপরাধ কারাগারে যাক। তাছাড়া একজনের বদলে অন্যজন সাজা কাটবে এমন কোন সিস্টেমও নেই। এমনকি কেউ ইচ্ছা করলেও তা করতে পারবে না। এই ঘটনায় যারা প্ররোচনা দিয়েছেন তাদেরকেও রেহাই দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত