২৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ০১:২৬
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে অর্ধশতাধিক ঘেরে পুরোদমে শুরু হয়েছে শুঁটকি উৎপাদন। এবারও দেশের চাহিদা মিটিয়ে বানিয়াচং থেকে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার শুঁটকি বিদেশে রপ্তানি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই উপজেলায় উৎপাদিত শুঁটকি বিগত কয়েক বছর ধরে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন শুঁটকি আড়তের মালিক।
বানিয়াচংয়ের জেলে পল্লীগুলোতে গিয়ে দেখা গেল বর্তমানে শুঁটকি শুকানোর কাজে ব্যস্ত জেলেরা। উপজেলার রত্না, ভাটিপাড়া,আতুকুড়া, মিনাটের গাং ও নদীর চরগুলোতে অর্ধশতাধিক শুঁটকি মহালে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার জেলে শুঁটকি শুকানোর কাজ করছেন। শুঁটকি উৎপাদন শুরু হওয়ার পর তাদের এখন দম ফেরার ফুরসত নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য এলাকার জেলেরা ইউরিয়া সার, লবণ ও পাউডার দিয়ে শুঁটকি উৎপাদন করে। শুঁটকি উৎপাদনে ক্যামিকেল ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি ওইসব শুঁটকি খেতেও কোন স্বাদ পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে বানিয়াচংয়ে শুঁটকি ঘেরগুলোতে বিষাক্ত ক্যামিকেল ব্যবহার না করায় এখানকার শুঁটকির স্বাদ ও কদর আলাদা।
বানিয়াচংয়ের জেলে পল্লীগুলোতে শুকানো শুঁটকি ক্রয় করতে আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে গুদাম মালিকরা দলে দলে হাজির হচ্ছেন এবং অনেকেই জেলেদের অগ্রীম টাকা দাদন হিসেবে দিয়ে যাচ্ছেন। ক্রেতাদের কাছে বানিয়াচংয়ের জেলে পল্লীর শুঁটকির আলদা সুনাম থাকায় অন্যান্য এলাকায় শুঁটকি এখন বানিয়াচংয়ের শুঁটকি বলে চালিয়ে দেয়ার প্রবণতাও শুরু হয়েছে বাজারগুলোতে।
বানিয়াচংয়ের ভাটিপাড়ার সন্দ্বীপ শুটকি আড়তের মালিক জেলে নিখিল দাস জানান, আমাদের এখানে উৎপাদিত শুঁটকির মধ্যে লইট্যা, রুপচান্দা, পুটি, চিংড়ী, বাইম শুঁটকি অন্যতম। এসব এলাকার অন্যতম মানের শুঁটকি জেলার গন্ডি ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় ও সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে তা এখন রপ্তানি হচ্ছে,দুবাই, সৌদী আরব, কাতার, মালয়েশিয়া,ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এবছর ও দেশের চাহিদা মিটিয়ে বানিয়াচংসহ আশেপাশের এলাকার শুঁটকি ঘের থেকে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার শুঁটকি বিদেশে রপ্তানি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঘের মালিকরা।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জেলেরা গুদাম মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা দাদন এনে এসব শুঁটকি শুকানোর কারণে স্বল্প মূল্যে শুঁটকিগুলো গুদাম মালিকদের হাতে তোলে দিতে হয়। বানিয়াচংয়ের প্রায় তিন থেকে চার হাজার জেলের অন্যতম আয়ের উৎস এই শুঁটকি ঘের। শুকনো মৌসুমে শুঁটকি শুকিয়ে তা মালিকদের কাছে বিক্রি করে চলে তাদের জীবন জীবিকা।
এ বিষয়ে বানিয়াচং নন্দীপাড়ার শুঁটকি ব্যবসায়ী ও মামু-ভাগিনা শুঁটকি আড়তের মালিক হেকিম উল্লাহ জানান, প্রতি বছর অত্র এলাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় কোটি টাকারও বেশী শুঁটকি। নদী ও হাওর থেকে আহরণ করা মাছ আধুনিক পদ্বতিতে শুকানোর কোন ব্যবস্থা না থাকায় জেলেদের বাড়ির সামনে প্রখর রৌদ্রে শুঁটকি শুকাতে হয়। তাছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীন সড়ক পথ গুলো উন্নত না হওয়ায় উৎপাদিত শুঁটকি দুর-দুরান্তে সরবরাহ দিতে পরিবহন সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে এখানকার শুঁটকি কম খরছে বিভিন্ন জেলায় প্রেরণ করা যেত। শুঁটকি শুকানো কাজে নিয়োজিত জেলেরা সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে আরো ব্যাপক হারে শুঁটকি উৎপাদন করার মাধ্যমে তা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
আপনার মন্তব্য