সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

২৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৫:৩৪

সুনামগঞ্জে বাল্যবিয়ে ও যৌন হয়রানিকে লাখো শিক্ষার্থীর ‘লালকার্ড’

“থাকলে শিশু বিদ্যালয়ে, হবেনা বিয়ে বাল্যকালে থাকলে শিশু লেখাপড়ায়, সফল হবে জীবন গড়ায়” এই শ্লোগানে সুনামগঞ্জের ২৯৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক লাখ ১৪ হাজার ৩২৩ জন শিক্ষার্থী এক সাথে লাল কার্ড দেখানোর মধ্য দিয়ে বাল্য বিয়েকে ‘না’ জানায়।

সোমবার দুপুর ১২ টা ২৪ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড থেকে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ সময় কাউন্ট-ডাউন শুরু করেন। পরে ১২ টা ২৫ মিনিট থেকে সকলে যার যার অবস্থান থেকে এক সঙ্গে দাঁড়িয়ে লাল কার্ড উচিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে শ্লোগান ধরেন,‘বাল্য বিবাহকে- না’ যৌন হয়রানিকে- না’। এক নাগারে ৫ মিনিট শ্লোগান চলার পর সকলে এক সঙ্গে উচ্চস্বরে বলেন ‘না’।

এসময় সুনামগঞ্জ জেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা দেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, জেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণার এই আয়োজনে শিক্ষার্থীসহ লাখো মানুষ অংশ নেয়। জেলার ২৯৯টি স্থানে একযোগে এই অনুষ্ঠান হয়। মূল অনুষ্ঠান হয় জেলা শহরের শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে। এই মিলনায়তন ও চত্বরে সহস্ত্রাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত থেকে ঐতিহাসিক কর্মসূচীতে নিজেদের যুক্ত করে।  এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীসহ লাখো মানুষ একযোগে বাল্যবিবাহকে ‘না’ বলেছে।

কর্মসূচী পালনের পর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মিলনায়তন মঞ্চে বক্তব্য রাখেন- বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দীন আহমেদ, জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, নারী নেত্রী শীলা রায় প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা হাকিম সাবেরা আক্তার। অনুষ্ঠানে বাল্য বিয়ের কুফল
ও জেলা প্রশাসন কিভাবে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সবার সামনে তা তুলে ধরেন।  জেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুজ্জামান।

আলোচনা সভার পূর্বে মুসলিম বিবাহ নিবন্ধক কাজী শফিকুল ইসলাম ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সুবিমল চক্রবর্তী সবার উদ্দেশ্যে বলেন, প্রাপ্ত বয়স ছাড়া কেউ যাতে বিয়ে না দেয়। সেই যারা বিবাহ নিকন্ধনের সাথে জড়িত আছেন তারা যাতে সবাই এ ব্যাপারে সচেতন থাকেন। কেউ যদি বাল্য বিয়ে দিতে চায় তাহলে তাদের বিয়ে নিবন্ধন না করার আহ্বান জানান তারা।
বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন,‘এটি ব্যতিক্রমী কর্মসূচী, কর্মসূচীটিকে গিনেজ বুকে অন্তভূক্তির জন্যও চেষ্টা করা হচ্ছে’।

জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ওয়ার্ড-ইউনিয়ন এবং পরে উপজেলায় উপজেলায় এই কর্মসূচী পালনের পর আজ সোমবার জেলাব্যাপী এই কর্মসূচী পালন করা হলো’।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বাবর আলী মীর, সিভিল সার্জন আশুতোষ দাশ, ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী, নারীনেত্রী শীলা রায় প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত