২৪ জানুয়ারি, ২০১৭ ০১:০৯
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলনকালে টিলা ধ্বসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় আবার উঠে এসেছে শামীম আহমদের নাম।
পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শামীম আহমদের মদদেই ভোলাগঞ্জসহ কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন সময়ে সংবাদ মাধ্যমে আলোচিত হয়েছে শামীমের নাম।
রোববার সকালে শাহ আরেফিন টিলা ধ্বসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায়ও ফের ওঠে আসে শামীম আহমদের নাম। তবে এসব অস্বীকার করে শামীম আহমদ বলেছেন, আমি পাথর উত্তোলনের সাথে সম্পৃক্ত নই।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, শামীম আহমদের প্রশ্রয়ে শাহ আরেফিন টিলার থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি পাথর উত্তোলন করাচ্ছেন। রোববার আঞ্জু মিয়া নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান তারা।
এব্যাপারে আঞ্জু মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে শামীম আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি বা আমার বংশের কেউই পাথর উত্তোলন ও বিক্রির সাথে জড়িত না। আমাদের ভারত থেকে পাথর ও কয়লা আমদানির ব্যবসা আছে, যা বেশ কয়েকমাস ধরে বন্ধ।
তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের সম্মান ক্ষুন্ন করতেই বিভিন্ন এসব অপপ্রচার চালানো হয়।
শামীম আহমদের বাবা আব্দুল বাসিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাই জয়নাল আবেদীন সম্প্রতি জেলা পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে শা আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলনে কারা জড়িত তা জানেন না বলে জানান কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বায়েছ আলম।
এদিকে, এই দুর্ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে রোববার রাতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার ভোরে শাহ আরেফিনের টিলার অর্ন্তগত মটিয়ার টিলা কেটে পাথর উত্তোলনকালে ওই টিলা ধসে পড়ে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সকলেই পাথর শ্রমিক। তবে মৃতের সংখ্যা নিয়ে রয়েছে ধুম্রজাল। স্থানীয় সূত্রে ছয়জন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পুলিশের দু'জনের কথা নিশ্চিত করেছে।
ছয়জনের মারা যাওয়ার কথা শুনেছেন জানিয়ে সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (গণমাধ্যম) সুজ্ঞান চাকমা বলেন, তবে আমরা এখন পর্যন্ত দু'জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছি। তাদের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়।
আপনার মন্তব্য