২৬ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০৮
নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান করে গঠিত ছয় সদস্যের সার্চ কমিটির দু'জনের বাড়ি সিলেটে।
তাঁরা হলেন- সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। এদের মধ্যে মোহাম্মদ সাদিকের বাড়ি সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে এবং মনজুরুল ইসলামের বাড়ি সিলেটে।
এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মাসুদ আহমেদ, ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি শিরীণ আখতার।
বুধবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসে মহামান্য রাষ্ট্রপতির বরাবরে নির্বাচন কমিশনের নাম সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।
সার্চ কমিটির ছয় সদস্যের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো:
বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন
বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ মুস্তাফা আলী ও মা বেগম কাউসার জাহান।
তিনি বিএসসি, এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ছয় মাসের ‘কমনওয়েলথ ইয়াং লইয়ার্স কোর্স’ সম্পন্ন করেন। তিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটির অধীনে স্কুল অব ওরিয়েন্টাল আফ্রিকান স্টাডিজ অ্যান্ড দ্য ইন্সটিটিউট অব অ্যাডভান্সড লিগ্যাল স্টাডিজ থেকেও ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮১ এবং ১৯৮৩ সালে তিনি যথাক্রমে জেলা জজ আদালত এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯৯ সাল থেকে হাইকোর্ট বেঞ্চে পদোন্নতির আগ পর্যন্ত তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পান।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ১৯৫৯ সালের ১১ জানুয়ারি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ড. আখলাক হোসেন আহমেদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকসহ সম্মান ডিগ্রি অর্জনের পর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনেও স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। হাইকোর্ট ডিভিশনে আইনজীবী হিসেবে যুক্ত হন ১৯৮৮ সালে। ২০০৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যুক্ত হন তিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালের ৩০ জুন তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৬ জুন তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলে ২০১২ সালের ২৫ মার্চ এসংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল-২ এর অন্যতম বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। পরে ২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
ড. মোহাম্মদ সাদিক
ড. মোহাম্মদ সাদিক ১৯৫৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি ২০১৬ সালের ২ মে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ১৯৭৭ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর ড. মোহাম্মদ সাদিক যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৯৪-৯৫ সালে পারসোনাল ম্যানেজমেন্ট-এর ওপর পড়াশুনা করেন এবং আসাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
ড. সাদিক সরকারের শিক্ষা সচিব ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মোহাম্মদ মবশ্বির আলী এবং মাসতুরা বেগমের একমাত্র পুত্র ড. মোহাম্মদ সাদিকের সহধর্মিনী বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের একজন সিনিয়র সদস্য।
মাসুদ আহমেদ
মাসুদ আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অলেস্টার থেকে তিনি অ্যাকাউন্টিংয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন।
১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্ডস ক্যাডার হিসেবে যোগ দেন । কর্মজীবনে তিনি অডিট অ্যান্ড অ্যাকউন্টস বিভাগের অ্যাকাউন্টস অফিস এবং নিরীক্ষা অধিদফতর, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে কাজ করেছেন।।
তিনি ২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
প্রফেসর সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১৯৫১ সালের ১৮ জানুয়ারি সিলেট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ আমীরুল ইসলাম এবং মাতা রাবেয়া খাতুন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেন ১৯৭২ সালে। ১৯৮১ সালে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়েটস-এর কবিতায় ইমানুয়েল সুইডেনবার্গের দর্শনের প্রভাব বিষয়ে পিএইচডি করেন।
পেশাগত জীবনে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেন।
প্রফেসর ড. শিরীণ আক্তার
প্রফেসর ড. শিরীণ আক্তার ১৯৫৬ সালের ১ মে চট্টগ্রামের কক্সবাজার জেলার রামুর জোয়ারিয়ানালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৃত আবছার কামাল চৌধুরী ছিলেন কক্সবাজার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
প্রফেসর ড. শিরীণ আক্তার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৮১ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে ভারতের যাদবপুর ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। চলতি বছরের ২৮ মার্চ তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত হলুদ দল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
ড. শিরীণ আক্তার কক্সবাজার মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
আপনার মন্তব্য