২৬ জানুয়ারি, ২০১৭ ২০:৩৮
সিলেটের ৭টি ফার্মেসীকে মডেল ফার্মেসী হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার এই মডেল ফার্মেসীগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
মডেল ঘোষিত ফার্মেসীগুলো হলো- নগরীর শিবগঞ্জের ইউনিক ফার্মা ও মিতালী ফার্মেসী, মেডিকেল রোডে সুরমা ফার্মেসী এন্ড সার্জিক্যাল, চৌহাট্টায় ইউনিক ফার্মা ও সেন্ট্রাল ফার্মেসী, স্টেডিয়াম মার্কেটে নওরীন ও সিলেট মেডিকেল কর্পোরেশন।
উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, আমরা সারাদেশে মডেল ফার্মেসী স্থাপন করার চেষ্টা করছি। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটে ৭টি ফার্মেসীর উদ্বোধন করা হলো। এসব ফার্মেসী থেকে জনসাধারণ ভালো সেবা পাবেন।
তিনি ফার্মেসী মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ওষুধশিল্পের জন্য যে নীতিমালা আছে সে অনুযায়ী আপনারা ওষুধ বিক্রি করবেন এবং রাখবেন। আশা করবো আপনারা কোনো ধরণের ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ রাখবেন না এবং যে সব ওষুধের অনুমতি নেই সেগুলো বিক্রি থেকে বিরত থাকবেন।
উদ্বোধনের আগে বৃহস্পতিবার নগরীর হোটেল ইন সিলেট লিমিটেডের হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেটে ৭টি মডেল ফার্মেসীর কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি সিলেট শাখার সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদ মালেক বলেন, বর্তমান সরকারের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মানের যথেষ্ট উন্নয়ন হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রগতি সাধন ও মানবসেবার জন্য উন্নতমানের ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ফার্মাসিস্টদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মডেল ফার্মেসী কার্যক্রম বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক প্রনীত নতুন এই প্রকল্প দেশের উল্লেখযোগ্য ও ভাল মানের ফার্মেসীগুলেতে দেয়া হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে সিলেট নগরীর ৮টি ফার্মেসীতে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই ফার্মেসীগুলো জনগণকে উন্নত সেবা দিতে পারবে।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. ইহতেশামূল হক চৌধুরী, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ রুহুল আমিন, বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল-এর সদস্য ইশতিয়াক আহমদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট-এর পরিচালক অমর রতন সাহা, বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি সিলেট শাখার সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী।
মডেল ফার্মেসী সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন বিপিএমআই-এর প্রজেক্ট ডাইরেক্টর ডা. সৈয়দ ওমর খৈয়াম ও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি সিলেট শাখার সহ-সভাপতি এম এ আজিজ,সাধারন সম্পাদক এটিএম মোসাহিদ উদ্দিন ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান বলেন, আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, আমাদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য নিজস্ব উৎস থেকে শতকরা ৯৮ ভাগ ঔষধই উৎপন্ন হয়। ১২৭টি দেশে রপ্তানী হচ্ছে আমাদের তৈরীকৃত ঔষধ । এ থেকে বুঝা যায় স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। উন্নতমানের ঔষধ তৈরীতে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ আরো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমাদেরকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ঘরে ঘরে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে।এর ধারাবাহিকতায় আগামী তিন মাসের মধ্যে সিলেটে ৫০টি আদর্শ ফার্মেসী প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি প্রত্যাশা রাখি।
সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের জীবনরক্ষাকারী ঔষধ যেন মানসম্মত হয় সে ব্যাপারে ফার্মাসিস্টদেরকে সচেনতনতা অবলম্বন করতে হবে। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আপনার মন্তব্য