বড়লেখা প্রতিনিধি

২৭ জানুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫০

বড়লেখায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে আগর কারখানা, দূষণের অভিযোগ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জনবসতিপূর্ণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশঘেঁষে গড়ে উঠা একটি আগর কারখানার বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রতুলীবাজার এলাকায় গড়ে উঠা কারখানাটির দূষণ থেকে প্রতিকার চেয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।   

অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের রতুলীবাজার এলাকায় সুজানগর ইউনিয়নের বড়থল গ্রামের হবিব আলী ৬/৭ মাস পূর্বে আগর কাঠের ভূষি প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা গড়ে তুলেন। কারখানাটি পাথারিয়া গাংকুল ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, গাংকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কিন্টার গার্ডেন সংলগ্ন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া কারখানার যন্ত্রের উচ্চ শব্দের কারণে রাতের বেলায় মাদ্রাসার ছাত্রবাসের শিক্ষার্থী ও আশপাশের গ্রামের মানুষও মারাত্মক শব্দ দূষণে ভুগছেন।  

দূষণ এর প্রতিকার চেয়ে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ২৩৮ জন ভুক্তভোগির সাক্ষরসম্বলিত লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী (অভিযোগ নং-১৫৯৮)।  

অভিযোগকারী পাথারিয়া গাংকুল ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এফএইচএম ইউসুফ আলী জানান, ‘কারখানার যন্ত্রের শব্দ ছাত্রবাসের শিক্ষার্থীদের রাতে ঘুমাতে ও পড়তে অনেক কষ্ট হয়। এছাড়া মাদ্রাসার অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। আমরা কারখানার মালিককে এ বিষয়ে জানিয়েছিলাম। তিনি তাতে কোন সাড়া দেননি। তাছাড়া আগর কাঠের ভূষি প্রক্রিয়াজাতকরণের ভূষি মাদ্রসার পুকুরে পড়ে পানি দূষণসহ মাছও মারা পড়ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে এলাকার বাসিন্দা রতুলী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছায়দুল হক, ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান, ফয়জুর রহমান, গাংকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম, সেলিম মোহাম্মদ, সাহিদুর রহমান জানান, কারখানার যন্ত্রে উচ্চ শব্দ ও বায়ূ দূষণের কারণে শিক্ষার্থী ও আশপাশের গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জনজীবনে বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

অভিযুক্ত কারখানার মালিক হবিব আলী বলেন, ‘আমার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষরাই এসব অভিযোগ করাচ্ছেন। তবে কারখানার দ্বারা পরিবেশ দূষণের ঘটনা তদন্তে উঠে আসলে আমি তা সরিয়ে নেবো।’

অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘অভিযোগ তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত