হামিদুর রহমান, মাধবপুর

২৯ জানুয়ারি, ২০১৭ ২১:৫৮

মাধবপুরে ডায়মন্ট আলুর বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

বিএডিসি শ্রীমঙ্গল জোনের আওতায় হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী, শাহজাহানপুর, জগদীশপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকরা ডায়মন্ট আলু চাষ করে বাম্পার ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের হরিণখোলা, গোপিনাথপুর, আলাবক্সপুর, কমলানগর, জগদীশপুর ইউনিয়নের ইটাখোলা, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়া বাগানসহ বিভিন্ন স্থানে ডায়মন্ট আলু চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে বিএডিসি শ্রীমঙ্গল জোনের আলো বীজ হিমাগার ও চাষীদের প্রশিক্ষণ, উন্নতমানের বীজ সরবরাহ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে মাধবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে চৌমুহনী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের মডেল কৃষক বদু মিয়ার তত্ত্বাবধানে ৩১ জন চাষী ৪০ একর জমিতে ডায়মন্ট জাতের আলু চাষ করেছে। উৎপাদিত আলু কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি বিএডিসির শ্রীমঙ্গল জোনের কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবেন।

শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) সরেজমিনে বিএডিসি আলু বীজ হিমাগার শ্রীমঙ্গল জোনের উপ-পরিচালক (টিসি) খলিলুর রহমান চৌমুহনী ইউনিয়নের হরিণখোলা গ্রামে মনতলা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক মহি উদ্দিন আহম্মেদের আলুর খামার, বিএডিসি চৌমুহনী বাজারের ডিলার লালা ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মনির হোসেনের আলুর খামার, মডেল কৃষক বদু মিয়ার আলোর খামার ও কমলানগর গ্রামের মামুন মিয়ার আলুর খামার পরিদর্শন করেন।

এসময় বিএডিসি আলু বীজ হিমাগার শ্রীমঙ্গল জোনের উপ-পরিচালক (টিসি) খলিলুর রহমান জানান, প্রতি একরে ৯ থেকে ১০ টন আলু উৎপাদনের আশা করছেন আলু বীজ হিমাগার কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও জানান, আগের মতো হল্যান্ড থেকে আলো আমদানি না করে বিএডিসি টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত ভাইরাসমুক্ত রোগবালাইবিহীন বীজ কৃষকদেরকে সরবরাহ করে আসছে। যার ফলে দেশে এখন আলুর ভাল ফলন হচ্ছে। আলু উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বে ৮ম স্থান দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বিএডিসি কর্তৃপক্ষ উৎপাদিত আলু সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে হিমাগারে সংরক্ষণ করবে।

বিএডিসি চৌমুহনী বাজারের ডিলার আলু চাষী মনির হোসেন ও মডেল কৃষক বদু মিয়া জানান, এবার ডায়মন্ট জাতের আলুর বাম্পার ফলন হওয়ার এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও এই আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ বছরে আলুর বাম্পার ফলনের ফলে অনেকেই নতুন করে আগামী বছর আলু চাষ করবে।

কৃষক মনির হোসেন জানান, এ জাতের আলুর বীজ রোপনের মাত্র ৮০ দিনের মধ্যে আলু উৎপাদন করা যায়। সময় কম লাগায় এবং ফলন ভাল হওয়ায় এ জাতের আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।

মাধবপুর উপজেলার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অর্ধেন্দু দেব অসিত বলেন, ডায়মন্ট জাতের আলুর ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকদের এ জাতের আলু চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে কৃষকদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত