৩০ জানুয়ারি, ২০১৭ ০২:০৭
অনেক চেষ্টা করেও বাংলাদেশি স্বামীকে সাথে নিতে না ফেরে গত ২৮ জানুয়ারি হতাশ হয়ে নিজ দেশে ফিরে গেলেন ব্রাজিল কন্যা সেওমা ভিজেহা । ৩১ ডিসেম্বর প্রেমের টানে বাংলাদেশি প্রেমিক কলেজ ছাত্র আব্দুর রকিব’র বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হালিতলা (বারৈকান্দি ) গ্রামে এসেছিলেন ৪৭ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান কন্যা ৩ সন্তানের জননী সেওমা ভিজেহা।
৩ জানুয়ারি হবিগঞ্জের নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে হাজির হয়ে খ্রীষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন তিনি। পরে ৪ জানুয়ারি ইসলামী শরিয়া মোতাবেক ২ লাখ টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে এই প্রেমিক যুগলের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশে স্বামীর বাড়িতে ২৯ দিন অবস্থানকালে ব্রাজিল কন্যা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ায় মন খারাপ স্বামী আব্দুর রকিবের।
জানা যায়, প্রায় ৯ মাস পুর্বে নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হালিতলা (বারৈকান্দি) গ্রামের আছকান উদ্দিনের ছেলে মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র আব্দুল রকিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় ব্রাজিলীয়ান কন্যা সেওমা ভিজেহার। এর সুত্র ধরেই চলে তাদের মধ্যে ফোনালাপ। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘ ৯ মাস ফোনালাপ, ভিডিও কলে যোগাযোগসহ ফেইসবুকে ম্যাসেজ দিয়ে কথাবার্তা চলে আসছিল।
সেওমা ভিজেহা ২ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তানের জননী। আগের স্বামীর সাথে তার বিচ্ছেদ হয়েছে। প্রায় ৯ মাস প্রেমের সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে রকিবকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন সেওমা।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে প্রেমিক কলেজ ছাত্র আব্দুর রকিবের গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন সেওমা। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যাক নারী-পুরুষ সেওমা’কে এক নজর দেখার জন্য ভীড় করেন। তবে সেওমা ভিজেহা বাংলায় কথা বলতে না পারায় এবং বাংলা ভাষা না বুঝার কারনে আগত উৎসুক লোকজনের সাথে কথা বলতে পারেন নি।
২৯ দিনের ভিতরে মাধবকুন্ডসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্থানে ঘুরে দেখেন সেওমা। স্বামীর বাড়ির আত্বীয় স্বজনদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। এরই মধ্যে সেওমা ভিজেহা তার স্বামী আব্দুর রকিবকে তার সাথে ব্রাজিল নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত ব্রাজিলিয়ান দুতাবাসে নিয়ে যান। কিন্তু আইনী জটিলতার কারনে স্বামী নিতে না পারায় একাই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সেওমা। তিনি গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর পর স্বামীকে ব্রাজিল নেওয়ার সকল কার্যক্রম করা হবে।
গত ২৮ জানুয়ারি সকালে ব্রাজিলের উদ্দেশ্যে স্বামীর বাড়ি থেকে বের হন।
এসময় সেওমা বলেন, জীবনের সব কিছু ভুলে গেলেও স্বামী রবিককে কখনও ভুলবেন না। এদিকে স্ত্রী সেওমা ভিজেহা ব্রাজিল চলে যাওয়ায় স্বামী রকিবও ব্যকুল হয়ে উঠেছে। আব্দুর রকিব জানান, যে মেয়ে আমাকে ভালবেসে সুদুর ব্রাজিল থেকে আমার কাছে ছুটে আসে তাকে কখনও ভুলতে পারবো না। সে খুব ভাল মেয়ে। তাকে খুব মিস করছি।
আব্দুর রকিবের পিতা আছকান উদ্দিন জানান, তার পুত্রবধূ সেওমা খুবই ভদ্র ও ভাল মেয়ে। প্রায় ২৯ দিন বাড়িতে থাকায় খুব ভাল লেগেছে। চলে যাওয়ায় মনটা খারাপ লাগছে বলেও তিনি জানান।
আপনার মন্তব্য