০১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ১৬:০৮
পরীক্ষা থেকে ফিরে এসে মায়ের রান্না করা খাবার খাবেন বলে চার মাস আগে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন খাদিজা বেগম নার্গিস। পরীক্ষা দিয়ে আর বাড়ি ফিরা হয়নি তাকে। খাওয়া হয়নি মায়ের হাতের রান্না। চাপাতির কুপ নিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো হাসপাতালে। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করে অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেছেন সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের এই ছাত্রী। প্রায় চার মাস পর গতকাল বুধবার সিলেটে ফিরেছেন খাদিজা।
বুধবার দুপুর সাড়ে তিনটায় সিলেট সদর উপজেলার আউশা গ্রামের বাড়িতে ফিরেন খাদিজা। এর আগে ২টা ১৭ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
খাদিজার বাড়ি ফেরাকে ঘিরে এলাকায় আবেগময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ছে। আশপাশের লোকজন দেখতে আসছেন তাকে। তবে খাদিজাকে গণমাধ্যম ও লোকসমাগম থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। তবে বাড়িতে পৌঁছে মায়ের সাথে দেখা হবার পর মা ও মেয়ে দুজনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গত বছরের ৩ অক্টোবর ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের চাপাতি কোপে আহত হয়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা অবস্থায় ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো খাদিজাকে। দীর্ঘদিন তাকে স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সার্পোটে থাকতে হয়েছে। তবে গতকাল ওসমানী বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তাকে অনেকটা সুস্থ দেখা গেছে। হেঁটেই বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে ওঠেন খাদিজা। এরপর গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে হেঁটেই নিজেদের ঘরে প্রবেশ করেন তিনি। এসময় বাবা মাসুক মিয়া ও ভাই শারনান হক শাহিন খাদিজার সঙ্গে ছিলেন।
বিমানবন্দরে খাদিজার ভাই শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, খাদিজার মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য এক সপ্তাহের জন্য তাকে সিলেটে আনা হয়েছে। এই সময়কালে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটাবেন। এক সপ্তাহ পর ফের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে খাদিজাকে।
ঢাকায় পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) চিকিৎসাধীন আছেন খাদিজা বেগম।
গতবছরের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে কুপিয়ে আহত করা হয়েছিলো তাকে। এ ঘটনায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে তুলে দেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
খাদিজা হত্যাচেষ্ঠা মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি। এদিন খাদিজাকেও আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো।
তবে খাদিজার আদালতে হাজির হওয়ার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে ভাই শাহিন বলেন, ঢাকায় ফিরে চিকিৎসকদের সাথে আলাপ করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামী করা হয়েছিলো বদরুল আলমকে। ৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বদরুল।
৮ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর শাহপরান থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ১৫ নভেম্বর আদালত অভিযোগপত্র করেন। ২৯ নভেম্বর আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। পরে ৫ ডিসেম্বর, ১১ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন ৩৩ জন।
আপনার মন্তব্য