০২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ০০:১১
পৃথিবীতে সন্তানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হচ্ছে তার মা। কিন্তু মাঝে মাঝে এই মা-ই আবার নিষ্ঠুর হয়ে ওঠেন। নাড়ি ছেঁড়া ধনকে বেমালুম ভুলে সকল বর্বরতাকেও হার মানান। এমই একটি নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুঁটিজুরি ইউনিয়নের হাছনাবাদ গ্রামে।
বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে পাঁচ মাস বয়সী অসুস্থ কন্যা শিশু সুমাইয়া আক্তারকে ঘরে রেখে মা আছিয়া খাতুন অজানার উদ্দেশ্যে পালিয়েছেন। দুপুরে অসুস্থ সুমাইয়ার নানী তাকে নিয়ে হাজির হন বাহুবল থানায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান শিশুর অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসা চলছে শিশুটির।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহুবলে উপজেলার শেওরাতলী গ্রামের শ্যামল ওরফে সৈকতের সাথে প্রায় দেড় বছর আগে বিয়র হয় হাছনাবাদ গ্রামের আছিয়া খাতুনের। এটি ছিল আছিয়া খাতুনের দ্বিতীয় বিয়ে। দ্বিতীয় বিয়ের কয়েক মাস পর স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসেন আছিয়া খাতুন। বাবার বাড়িতেই জন্ম হয় সুমাইয়ার।
সুমাইয়া গত চারদিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছিল। শরীরে দেখা দিয়েছিল পানিশূণ্যতা। বিনা চিকিৎসায় শিশুটির মাথায় গর্তের মতো দেখা যাচ্ছিল। স্থির হয়ে গিয়েছিল দুই চোখ। এরই মাঝে বুধবার ভোর রাতে পাঁচ মাস বয়সী অসুস্থ শিশু সুমাইয়া আক্তারকে ঘরে রেখে মা আছিয়া খাতুন নিরুদ্দেশ হন। মা পালিয়ে যাওয়ায় শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েন তার নানী।
নিরুপায় হয়ে তিনি সুমাইয়াকে নিয়ে হাজির হন বাহুবল থানায়। থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান শিশুর অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান। ভর্তি করানোর পর ওসি শিশুটির বাবার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দেন তাকে। মাদকাসক্ত পিতা শ্যামল ওরফে সৈকত ওসিকে জানান, তিনি সুমাইয়াকে চেনেন না। বাবার মুখে এমন কথা শুনে হতবাক হয়ে যান ওসি।
এদিকে বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর বাহুবল থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন।
পোস্টে তিনি লিখেন-
"হায়রে মা........
পাঁচ মাস বয়সী অসুস্থ সুমাইয়া আক্তারকে আজ ০১/০২/২০১৭ তারিখ ফজরের নামাজের সময় তার মা আছিয়া খাতুন মাতৃগৃহে ফেলে অজানার উদ্দেশ্যে পলায়ন করেছে।
সুমাইয়ার নানী বেলা সোয়া বারোটার সময় আমার কক্ষে এসে হাজির। অসুস্থ বাচ্চাটিকে দেখে তাৎক্ষনিক বাহুবল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলাম। থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও অন্যান্য ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয় সকলের আন্তরিকতায় শিশুটির চিকিৎসা চলে।
শিশুটি গত চারদিন যাবৎ ডায়রিয়ায় ভুগছে। শরীরে পানিশূণ্যতা দেখা দিয়েছিল। মাথায় গর্তের মতো দেখা যাচ্ছে। চোখ স্থির হয়ে আছে। মেয়েটির বাবা শ্যামল ওরফে সৈকতকে ফোন দিলাম। সে মাদকাসক্ত। সুমাইয়া কে তা সে জানে না। এমন উত্তর পেয়ে হতবাক হয়ে পড়লাম।
সবাই অসুস্থ সুমাইয়ার জন্য দোয়া করবেন। সে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে। আমীন।"
ওসি মো. মনিরুজ্জামান বুধবার রাতে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, "রাতে শিশুটিকে হাসপাতালে দেখে আসলাম। তাঁর জন্য কিছু কাপড় কিনে দিয়েছি। দুপুরে শিশুটির নানী তাকে থানায় নিয়ে আসলে হাসপাতালে ভর্তি করে দেই। শিশুটির মায়ের এর আগেও একটি বিয়ে হয়েছিল। সেখান সে তালাক প্রাপ্ত হয়। সুমাইয়া তার দ্বিতীয় স্বামীর ঘরের সন্তান। শিশুটির বাবা মাদকাসক্ত। তাদের খোঁজ রাখে না। শিশুটির মায়ের সন্ধানে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রেখেছে।"
আপনার মন্তব্য