০৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ০০:৩৬
নবীগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি নামে আছে, কাজে নেই। ইতিপূর্বে বিগত মাসগুলোর গৃহীত সিদ্ধান্ত অদ্যাবধি পর্যন্ত বাস্তবায়ন বা আলোর মুখ না দেখায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আলোচিত সিদ্ধান্তগুলো ইদানিং বাস্তবায়ন না হওয়ায় জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি কর্ণপাত করছেন না। এনিয়ে জনপ্রতিনিধি, সুধী মহলসহ জনমনে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলমহাল দখল নিয়ে খুন ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশংকা প্রকাশ করে ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ আলোচনা করেন। এসব বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কমিটির সভাপতি ইউএনও তাজিনা সারোয়ার এর কার্যালয়ে ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া নবীগঞ্জ শহরে অসহনীয় যানজট নিরসনে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় জনদূর্ভোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবীগঞ্জ উপজেলা হল রুমে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিগত সভার সিদ্ধান্তগুলো পড়ে শুনানো হলেও বাস্তবায়নের কোন আলামত পরিলক্ষিত হয়নি। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল কি না এ নিয়েও কোন আলোচনা স্থান পায়নি। ফলে কাগজ কলমেই সিদ্ধান্তগুলো চাপা পড়ে রয়েছে। এতে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) রাসেলুর রহমান, নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জীতেন্দ্র কুমার নাথ, থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বাতেন খাঁন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. রথীন্দ্র চন্দ্র দেব, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার পাল হিমেল, ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইজাজুর রহমান, মো. আশিক মিয়া, আবু সাঈদ এওলা মিয়া, আলী আহমেদ মুসা, ছাইম উদ্দিন, আবু সিদ্দিক, বজলুর রশিদ, জাবেদুল আলম চৌধুরী সাজু, জাপা নেতা শাহ আবুল খয়ের, মাহমুদ মিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ মিলু ও শেখ ছইফা বেগম কাকলি প্রমুখ।
সভায় শুরুতেই সভাপতি বিগত সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার আহবান জানালে কোন সদস্য আলোচনায় অংশ না নিয়ে নীরবতা পালন করেন। পরে বিগত সিদ্ধান্তগুলো রেজুলেশন আকারে গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, বিগত দুই সভায় জলমহালের জোর দখল ও লিজ নিয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা, খুন-খারাবি হওয়ার আশংকা নিয়ে আলোচনা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হলেও কমিটির সভাপতি কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি। জলমহাল নিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও দাঙ্গা হাঙ্গামাসহ আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশংকা রয়েছে।
বিগত সভায় দুই জন ইউপি চেয়ারম্যান তাদের স্ব স্ব এলাকার জলমহাল নিয়ে খুন, ও দাঙ্গার আশংকা প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তিনি বাস্তব কোন পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ। এছাড়াও সরকারী জায়গা দখল, কবরস্থান, হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবোত্তর সম্পত্তি ও মন্দির, মসজিদের জায়গা দখল নিয়ে একাধিক সদস্য আলোচনা করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ কমিটির অনেক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সুধী মহলে এনিয়ে প্রশ্ন জেগেছে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচিত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে কার্যকরি ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, এর সমাধান কোথায় হবে? এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন মহলেও।
এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন বিরাজ করছে জনমনে। এর মধ্যে বিশেষ করে প্রতিটি সভায় নবীগঞ্জ শহরে অসহনীয় যানজট নিরসনে আলোচনা হলেও বাস্তবে যানজট নিরসনে কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছেনা। প্রতিদিন শহরের তীব্র যানজটের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ জনসাধারণ মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
আপনার মন্তব্য