নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ১৭:৫৪

শুল্কফাঁকির গাড়ি ১৭ লাখ টাকার রেজিস্ট্রেশন

কারনেট সুবিধায় যুক্তরাজ্য থেকে দেশে লেক্সাস গাড়ি এনে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর বিআরটিএ’র অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ১৭ লাখ টাকায় জাল কাগজ দিয়ে এই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করা হয়। সম্প্রতি সুনামগঞ্জ থেকে শুল্ক গোয়েন্দাদের উদ্ধার করা একটি শুল্ক ফাঁকির গাড়ির তদন্তে এমন তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তদন্ত শেষে গত সোমবার পৌনে ২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে সিলেট বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন মন্টুসহ সাত জনের বিরুদ্ধে সিলেট কতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করে (মামলা নং- ৭(২)১৭)। দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহ-উপপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত) ফরিদুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই মুরশেদ আলম বেলাল নামে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহাম্মদ দুদকের মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুদকের দায়ের করা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্য থেকে নিয়ে আসা লেক্সাস ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি ২০১০ সালে চট্রগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথানপুরের প্রবাসী রুপা মিয়া। পরবর্তীতে তিনি গাড়িটি বিক্রির জন্য হস্তান্তর করেন বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি পংকি খানের কাছে। পংকি খান গত বছর গাড়িটি বিক্রি করেন সুনামগঞ্জের হাজিপাড়ার মোরশেদ আলম বেলাল নামের এক ঠিকাদারের কাছে। গাড়ি কেনার পর নিজ নামে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেন বেলাল। এ ক্ষেত্রে রোমান নামের এক দালালের মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকা ঘুষ নেন সিলেট বিআরটিএ’র সরকারি পরিচালক (এডি) এনায়েত হোসেন মন্টু। দুদকের মামলায় এমন তথ্যই উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মামলা দায়েরের দুইদিন আগ থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন বিআরটিএ অফিসের অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কমচারিরা।

দুদক ও বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের তিলক শাহাড়পাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে লন্ডন প্রবাসী রুপা মিয়া ওই গাড়িটি এক বছরের জন্য ব্যবহারের কথা বলে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। ২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর গাড়িটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করেন তিনি। গাড়ির চেসিস নং JTJHF31U900023634, CC 2995, Model: Lexus RX300,   মডেল ২০০৪। কিছুদিন ব্যবহারের পর পরবর্তীতে রুপা মিয়া গাড়িটি বিক্রির জন্য বিশ্বনাথ উপজেলার বর্তমান আওয়ামী লীগ সভাপতি পংকি খানের কাছে হস্তান্তর করেন। পংকি খান ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের হাজিপাড়ার বাসিন্দা ঠিকাদার খোরশেদ আলম বেলালের কাছে গাড়িটি ২৯ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এর পর থেকে তিনি গাড়িটি ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে অনুসন্ধানে নামে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। গত বছরের ২৬ জুন সুনামগঞ্জ থেকে রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গাড়িটি আটক করেন। পরবর্তীতে দুদক অনুসন্ধান করে কিভাবে কাদের মাধ্যমে গাড়িটি সিলেট থেকে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে তারও তথ্য বের করেন। এতে বেরিয়ে আসে চাঞ্জল্যকর তথ্য।

দুদক জানায়, গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি জাল কাগজপত্র দিয়ে সিলেট বিআরটিএ অফিস থেকে গাড়ির ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেন বেলাল। গাড়ি নং সিলেট-ঘ ১১-০৩০১। আর জন্য তিন কিস্তিতে ১৭ লাখ টাকা নেন এডি এনায়েত হোসেন মন্টু। পূবালী ব্যাংক সুনামগঞ্জ শাখায় দালাল রুমান রায়হান ও তার ভাই লুৎফুরের একাউন্টে তিন কিস্তিতে টাকা দেন বেলাল। পরে ওই টাকা এডি মন্টুর কাছে দেন রুমান। এদিকে মামলার আগেই অফিস ছাড়া হন এডি মন্টুসহ অন্যরা। সোমবার রাতে দায়ের করা মামলায় এডি মন্টু, আ’লীগ নেতা পংকি, মূল মালিক রুপা মিয়া ও ক্রেতা বেলাল ছাড়াও কাগজপত্র তৈরীতে সহায়তা করা মামলায় আসামী করা হয়েছে বিআরটিএ অফিসের উচ্চমান সহকারি আব্দুর রব, মটরযাান পরিদর্শক কেশব কুমার দাস ও হাসন নগরের বাসিন্দা দালাল রোমানকে।

পংকি খান বিদেশ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিআরটিএ’র এডি এনায়েত হোসেন মন্টুর মোবাইল ফোন সারদিন বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

গাড়ির ক্রেতা ঠিকাদার বেলাল গ্রেফতার হওয়ার আগে গনমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, গাড়িটি শুল্ক  ফাঁকি  দিয়ে আনার বিষয়টি তিনি জানতেন না। পংকী খানের মাধ্যমে রুপা মিয়ার কাছ থেকে গাড়িটি কিনেছেন। এতে তার ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত