১১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ২১:১৩
সিলেটের ওসমানীনগরে শশুড় বাড়িতে ডেকে নিয়ে জামাই সাইফুল ইসলাম (২২)কে খুন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত সাইফুল উপজেলার উমরপুর ইউপির আব্দুল্লাহপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত মজিদ উল্লার ছেলে।
শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সাদীপুর ইউপির রহমতপুর চর গ্রামে শশুড় বাড়ি থেকে সাইফুলের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত সাইফুলের স্ত্রী রাশিদা বেগম ও শাশুড়ি ছায়া বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত সাইফুলের সাথে রাশিদার দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০১৬ সালের নভেম্বরে সাইফুল রাশিদাকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে তৃতীয় বিয়ে করে। সাইফুল-রাশিদার বিয়ের পর কিছু দিন সুন্দরভাবে চলার পর রাশিদার বহুগামী পরকীয়া নিয়ে সন্দেহ করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ ও বৈঠক হয়। এ করণে মাস দুয়েক পূর্বে রাশিদা তার বাবার বাড়িতে চলে যায়।
শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সালিশ ব্যক্তিরা সাইফুলের উপস্থিতিতে রাশিদার বাবার বাড়িতে বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ হয়। পরে সাইফুল তার বাড়িতে চলে যায়।
শনিবার সকালে সাইফুল মারা গেছে বলে তার শশুড় বাড়ি থেকে খবর পায় সাইফুলের পরিবারের লোকজন। ঘটনাটি পুলিশকে জানালে শনিবার দুপুর ১টার দিকে সাইফুলের শশুড় বাড়ি থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
নিহত সাইফুলের বড় ভাই আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, তার ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদার সাথে রহমতপুরের নছির ও আব্দুল্লাহপুরের কাদির এবং আফজলের সাথে পরকীয়া প্রেম রয়েছে। শুক্রবার রাতে তার ভাই সাইফুলকে রাশিদা ফোন করে ডেকে নিয়ে নছিরদের সহযোগিতায় তাদের বাড়িতেই সাইফুলকে হত্যা করা হয়। তিনি ভাই হত্যার বিচার দাবি করেন।
ওসমানীনগর থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী শশুড় বাড়ি থেকে জামাইয়ের লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা ময়না তদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের স্ত্রী ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য