১১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ২২:২৩
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সদরে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৩ কিলোমিটার জুড়ে প্রায় ১০ হাজার লোকের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ বাস্তবায়ন পরিষদের আহবানে শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন। এসময় বাজারের প্রায় ২ হাজার ব্যবসায়ী সকাল থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে মানববন্ধনে অংশ নেয়।
টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক ও পৌর মেয়র হিরেন্দ্র লাল সাহার সভাপতিত্বে এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আল রনির পরিচালনায় মানববন্ধন চলাকালে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক পাঠান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা সুকোমল রায়, মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মনোজ কান্তি পাল, সাধারণ সম্পাদক শাহ মোঃ সেলিম, দুনীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জীবন কৃষ্ণ বনিক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম টিটু, কাউন্সিলর অজিদ কুমার পাল, আবুল বাশার, বাবুল হোসেন, দুলাল খাঁ, ড্রাগ এসোসিয়েশনের সভাপতি দীপক কুমার মোদক, বনিক সমিতির সভাপতি কানাই বনিক, উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা তাজুল ইসলাম, মোজাহিদ বিন ইসলাম, এরশাদ আলী, মিজানুর রহমান, নাসির খাঁন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অলিদ মিয়া, বেবি ট্যাক্সি সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী ফিরোজ মিয়া, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, পৌর যুবলীগের সভাপতি সাব্বির হোসেন, ছাত্রলীগের সহসভাপতি মনির হোসেন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী মাধবপুর উপজেলা সদরে একটি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষে ২০১৪ সালের ১৯ আগস্ট কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক পত্র দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে। এ পত্রের আলোকে তৎকালীন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক স্কুল এন্ড কলেজের স্থান পরিদর্শন ও সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০১৫ সালের ২৭ জানুয়ারি পৌরসভার গুমুটিয়া মৌজার ২ একর ২১ শতক জায়গা নির্ধারণ করে তা সংশ্লিষ্ট অফিসে প্রেরণ করেন। অপরদিকে একটি মহল ওই স্কুল এন্ড কলেজটি উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা দুর্লভপুর মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের ২০৮ এবং ২১৮ দাগের কেস নথি সৃজন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেন। কিন্তু ওই ভূমি ৬ নং রেজিস্টারভুক্ত ইজারাধীন হওয়ায় আবারও পৌর এলাকার গুমুটিয়া মৌজার জায়গাটি প্রস্তাব করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। এমতাবস্থায় ওই চক্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রেরিত প্রস্তাব ব্যতিরেকে দুর্লভপুর মৌজার দাগ নং ৯১৩, ৮৯৪, ৮৯৫, ৮৯৬,৮৯৭ ও ৮৯৮ দাগে স্কুল এন্ড কলেজে স্থান নির্বাচন করার জন্য তৎপরতা শুরু করেন। এ খবর উপজেলা সদরে ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের জনসাধারণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও পৌর মেয়র বলেন, ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা চৈতন্যপুরে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে মাধবপুরসহ ৯টি ইউনিয়নের গরীব ছেলে-মেয়েদের কোন উপকারে আসবে না। ওইখানে যেতে হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ১শ টাকা যাতায়াত বাবত ব্যয় করতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যে উদ্দেশ্য তা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। তাই আমাদের প্রাণের দাবি হাজার হাজার গরীব শিক্ষার্থীর কথা চিন্তা করে উপজেলা সদরেই যেন ওই স্কুল এবং কলেজটি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে অন্যথায় দাবি আদায়ের লক্ষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধসহ কঠিন কর্মসূচি দেয়া হবে।
আপনার মন্তব্য